মোস্তাফিজ-সাকিবকেই ভয় অস্ট্রেলিয়ার

0
91

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশে আসার পর অস্ট্রেলিয়া দল এখনও কোনোদিন নেটে পুরোটা সময় অনুশীলন করতে পারেনি। অনুশীলনের একপর্যায়ে প্রতিদিনই বাগড়া দেয় বৃষ্টি।

অথচ বাংলাদেশে আসার পরদিনই ঢাকার আকাশে ঝলমলে রোদ দেখে হাসি ফুটেছিল স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নারদের মুখে।

কাল দুপুরে অনুশীলনের জন্য মিরপুর একাডেমি মাঠে যাওয়ার পথে ওয়ার্নারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আবহাওয়া কেমন দেখছেন? তিনি বলেন, ‘এখন তো দারুণ।’ তবে শেষ পর্যন্ত এই ‘দারুণ’ শব্দটা তার মুখে থাকেনি। কারণ অনুশীলন শেষ হওয়ার আগেই ব্যাট-প্যাড গুছিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। বৃষ্টি শুরুর আগে যেটুকু সময় পেয়েছেন তার মধ্যেই বাংলাদেশের স্পিনারদের সামলানোর জন্য অভিনব উপায়ে অনুশীলন করেছে সফরকারীরা। গ্লাভস, হেলমেট, প্যাড ছাড়াই স্পিনারদের মোকাবেলা করলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরা। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে অসি অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল জানালেন এমন অনুশীলনের কারণ।

কাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘আমরা ২০১২ সালেও একবার দুবাইয়ে এমন ব্যাটিং অনুশীলন করেছিলাম। তখন ব্যাটিং কোচ ছিলেন ল্যাঙ্গার (জাস্টিন)। ব্যাটটাকে বেশি ব্যবহার করাই এ ধরনের অনুশীলনের উদ্দেশে।’ তিনি বলেন, ‘সামনের পা উন্মুক্ত থাকে। তাই পা বাঁচাতে হলেও খেলার সময় সামনে পা সরিয়ে ব্যাট ব্যবহার করতে হবে। ব্যাটটা বেশি ব্যবহার করতে পারলে নিজের ওপর বিশ্বাস থাকবে। যারা স্টাম্প টু স্টাম্প বেশি বল করে তাদের বিপক্ষে এই কৌশল জরুরি। আর বাংলাদেশ এই কাজটা ভালোই করে। স্টাম্প টু স্টাম্প বলে নিজেদের রক্ষণটা আরও ঠিকঠাক করার চেষ্টা করেছি আমরা।’ বাংলাদেশে আসার আগেও তিনি এ পদ্ধতিতে অনুশীলন কিছুটা সেরে এসেছেন, ‘আমি দেশে এটা নিয়ে কাজ করেছি। আমার অনুশীলনের অনেকটুকুই রক্ষণ নিয়ে। এখানে খুব বেশি করা হয়নি, তবে আশা করি ম্যাচ শুরুর আগে তা করতে পারব।’

এদিকে ঢাকার এই রোদ-এই বৃষ্টি, সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে অসিদের নাভিশ্বাস উঠছে চরমে। গরমই বেশি ভোগাচ্ছে সফরকারীদের। ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) কাজটা খুব কঠিন ছিল। সারা রাত ও সকালে বৃষ্টি হওয়ার পর মাঠ থেকে আর্দ্রতা উঠে আসছিল। আমাদের একটু বেশিই ঘাম ঝরাতে হয়েছে। সত্যি বললে, গত কয়েকদিন থেকেই এটা হয়েছে। এখন আমরা শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখানে এই সময়টুকু আমরা উপভোগই করেছি।’ বাংলাদেশে আসার পর প্রথমদিনে নাকি ম্যাক্সওয়েলের একটি ছোটখাটো হিটস্ট্রোকও হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘প্রথমদিনেই আমার ছোট একটা হিটস্ট্রোক হয়েছিল। শুরুতেই একটা ধাক্কা আর কী! বাইরে বেশ কিছুটা সময় দৌড়েছিলাম। এরপর ভেতরে গিয়ে ফিটনেস টেস্ট করার পর আবার বাইরে আসাতেও সমস্যা হয়েছে। তবে গোসলের পর অনেক তরল খাবার খেয়ে সুস্থ হই।’ ঢাকায় প্রথম টেস্টে যে ধরনের উইকেট হতে পারে সে ধরনের উইকেটেই নাকি প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন তারা। এই মারকুটে ব্যাটসম্যান বলেন, ‘উইকেট দেখে ডারউইনের মতোই মনে হচ্ছে। ডারউইনে প্রস্তুতিতে আমাদের কঠিন কন্ডিশনে ব্যাটিং করতে হয়েছে। ভালোই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। টেস্টে যে ধরনের উইকেট থাকবে মনে হয় তার প্রস্তুতি আমাদের হয়েছে।’ বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘মোস্তাফিজুর অবশ্যই আলাদা ধরনের বোলার। আইপিএলে ওর বল খেলেছি। দারুণ সুইং করাতে পারে। অবিশ্বাস্য স্লোয়ারও করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সে সাধারণ মানের পেসার নয়। কব্জির কারণে শেষ মুহূর্তে দারুণ ‘ফ্লিক’ করতে পারে। বাউন্স ও স্লোয়ার সবগুলো দেখতেই একই রকম মনে হয়। এছাড়া বাংলাদেশে সাকিব অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। সে অনেকদিন ধরেই একনম্বর অলরাউন্ডার। সাকিব সত্যিকারের অলরাউন্ডার।’ এদিকে ম্যাক্সওয়েলকে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ব্যাটসম্যানই ধরা হয়। কিন্তু টেস্টেও তিনি আত্মবিশ্বাসী। পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ারে ম্যাক্সওয়েল ভারতের বিপক্ষে চারটি ও পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছেন। উপমহাদেশের কন্ডিশনে তার অভিজ্ঞতাও ভালো। ১০ ইনিংসে ম্যাক্সওয়েলের সেঞ্চুরি একটি। ভারতের বিপক্ষে ওই সেঞ্চুরিতেই আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। তিনি বলেন, ‘ভারতে যেমন ব্যাটিং করেছি তার চেয়ে বেশিকিছু পরিবর্তন আনব না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here