মোদির ‘ঘাঁটিতে’ সোনিয়া

0
261

b0a6a5c752fee27ec1e1bc91a8cf2ff5-SONIAঢাকা ডেস্ক: উত্তর প্রদেশে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিল কংগ্রেস। এবং সেই প্রচার শুরু করলেন খোদ কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তা-ও আবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী কেন্দ্র বারানসি থেকে। সন্ধ্যায় হঠাৎ প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোনিয়া আগেভাগে দিল্লি ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেও এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে তাঁর রোড শো। সোনিয়া দিল্লি ফিরলেও রোড শো শেষ করার কথা শীলা দীক্ষিতসহ অন্যদের।

এক বেলার জন্য গতকাল বারানসি যান সোনিয়া। রোড শোর কর্মসূচি ছিল সাড়ে ছয় কিলোমিটার। রাজনৈতিক দিক থেকে এই কর্মসূচি ছিল যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। বাবাসাহেব আম্বেদকরের মূর্তিতে মালা দিয়ে শুরু হয় হুড খোলা গাড়িতে চেপে শহর পরিভ্রমণ। ব্রাহ্মণ ও উচ্চবর্ণের পাশাপাশি মুসলমান এবং দলিত ভোটারদেও যে কংগ্রেস ‘টার্গেট’ করছে, তা এই রোড শো থেকেই স্পষ্ট। রাতে দিল্লি ফিরে যাওয়ার আগে সোনিয়ার গঙ্গাতীরে বাবা বিশ্বনাথের মন্দির দর্শনেরও কথা ছিল। জ্বরের কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। এটা হতো ইতালীয় বংশোদ্ভূত সোনিয়ার প্রথম বিশ্বনাথ দর্শন।

উত্তর প্রদেশের ভোটের আট মাস আগে থেকেই কংগ্রেস কোমর বেঁধে নেমেছে। রাজ্য বিধানসভায় কংগ্রেসের আসনসংখ্যা এখন ২৮। দীর্ঘ ২৮ বছর এই রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতারও বাইরে। যে বারানসি থেকে সোনিয়া প্রচার শুরু করলেন, সেখানকার সাংসদ স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি। লোকসভার ভোটে মোদির দল বিজেপির প্রচারের দায়িত্ব যাঁর ছিল, সেই প্রশান্ত কিশোর এবার কংগ্রেসের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁরই ছকে দেওয়া রাস্তায় হাঁটছেন সোনিয়া-রাহুল।

রোড শোর অনেক আগেই শুরু হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শীলা দিক্ষীতের বাসযাত্রা। প্রথম দফার বাসযাত্রা শুরু হয়েছিল দিল্লি থেকে, শেষ হয় কানপুরে। শীলা দীক্ষিত গোটা রাজ্যই এই বাসে চড়ে ঘুরবেন। উদ্দেশ্য জেলায় জেলায় কংগ্রেসের বসে যাওয়া কর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনা। সোনিয়ার রোড শোর উদ্দেশ্যও তা। তবে তাঁর সঙ্গে রয়েছে নরেন্দ্র মোদির প্রতি এক প্রচ্ছন্ন চ্যালেঞ্জ, যার মধ্য দিয়ে কংগ্রেস বুঝিয়ে দিতে চাইছে আগামী বছরের ভোটে বিজেপির চ্যালেঞ্জার কংগ্রেসই।

সোনিয়ার সঙ্গে রোড শোতে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত। আর ছিলেন রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি রাজ বাব্বর, প্রচার কমিটির চেয়ারপারসন সঞ্জয় সিং ও রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক গুলাম নবী আজাদ। সংবাদমাধ্যমকে গুলাম নবী আজাদ বলেন, কংগ্রেস বোঝাতে চাইছে রাজ্য ও দেশে বিজেপিকে রোখার ক্ষমতা একমাত্র তাদেরই রয়েছে। একমাত্র কংগ্রেসই পারে বিজেপির সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ধরে রাখতে।

কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি রাজ বাব্বরও কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশের ভোটে বারবার আশ্চর্য ফল দেখা গেছে। ২০০৭ সালের ভোট ছিল বিএসপির, ২০১২ সালের ভোট এসপির, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোট বিজেপির। সব কটা ফলইছিল অত্যাশ্চর্য। এবারও সেই চমৎকারিত্ব ঘটবে এবং তা কংগ্রেসের হয়ে।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই এবার দলটি তাদের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করে দেবে। দলের এক নেতার কথায়, এ রাজ্যে কংগ্রেসের ভোট ১০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। প্রাপ্ত ভোটের হার অন্তত দ্বিগুণ করা কংগ্রেসের লক্ষ্য। ওই সূত্রটি বলেছে, একার ক্ষমতায় সরকার গঠনের স্বপ্ন দল এখনই দেখছে না। দলের লক্ষ্য দুটি। বিজেপিকে রোখা এবং রাজ্যে ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক এক সরকারের শরিক হওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here