মেসেজ চালাচালি দেখা যায়, নিরাপদ নয় হোয়াটসঅ্যাপ!

0
104

161515Whatsapp222ফেসবুকের মালিকানাধীন মোবাইল মেসেজিং সার্ভিস ‘হোয়াসঅ্যাপ’ কোনো নিরাপদ প্লাটফর্ম নয় বলেই গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়। গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে জোর দিতে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। তাদের সবার মেসেজ নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির কারণে সহজেই পড়া যাবে। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রোটোকল চালু করেছে তা সঠিকভাবে সমস্যা মেটাতে পারেনি বলেই মনে হচ্ছে। এই সিস্টেমে বলা হয়, সিকিউরিটি কি-গুলো ব্যবহারকারীদের মধ্যেই লেনদেন হবে এবং মাঝের কেউ এই নিরাপত্তাব্যবস্থায় নাক গলাতে পারবে না। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ অফলাইনে ব্যবহারকারীদের নতুন এনক্রিপশন কি জেনারেট করতে বাধ্য করতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রিপ্টোগ্রাফি গবেষক টবিয়াস বোয়েল্টার জানান, যদি কোনো সরকারের এজেন্সি হোয়াটসঅ্যাপকে তার মেসেজিং রেকর্ড প্রকাশ করতে বলে, তবে তাদের কেবল এইসব কি পরিবর্তনের মাধ্যমেই কাজটি করতে পারবে।

বোয়েল্টার ২০১৬ সালের এপ্রিয়ে ফেসবুককে এই নিরাপত্তা ত্রুটির কথা জানান। তখন ফেসবুক জানায় যে তারা বিষয়টি নিয়ে সচেতন। অবশ্য এ নিয়ে তেমন গ্রহণযোগ্য কোনো কাজ এখনো করা হয়নি। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠান কেবল জানায়, সাধারণ, দ্রুতগতির, বিশ্বস্ত এবং নিরাপদ সেবা প্রদান করা হয়েছে। সেখানে আরো বলা হয়, কোনো কনট্যাক্টের সিকিউরিটি কোড বদলে গেলে ব্যবহারকারীদের নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণভাবে এটা তখনই ঘটে যখন কোনো ব্যবহারকারী হোয়াটসঅ্যাপ আবারো ইনস্টল করেন। তখন সব মেসেজ যেন যায় তা নিশ্চিত করতে চাই আমরা। আবারো ইনস্টল করার মাঝে যেন এগুলো হারিয়ে না যায়।

কিন্তু গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, নিরাপত্তায় ফোকর এখনো রয়েই গেছে।

প্রতিবেদনে ইউরোপিয়ান-বাহরাইনি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস এর ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কাউন্টার সার্ভিলেন্সের প্রধান স্টিফেন টর জেনসেনের কথা তুলে ধরে। তিনি বলেন, অফলাইনে থাকা অবস্থাতেও মেসেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে সিকিউরিটি কি বদলে যাওয়ার পদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে। সিকিউরিটি কি পরিবর্তন করা হলে ব্যবহারকারীরা জানবেন না। তখনই জানবেন যখন এটি পরিবর্তিত হবে। ফলে প্লাটফর্মটি নিরাপত্তা ঘাটতিতে পড়ে গেছে।

২০১৪ সালে বিপুল জনপ্রিয় মেসেজিং প্লাটফর্ম হোয়াসঅ্যাপকে কিনে নেয় ফেসবুক। তখন থেকে এটাকে আলাদা অ্যাপ হিসাবে চালিয়ে নিচ্ছে তারা। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

LEAVE A REPLY