মুলারকে বরখাস্ত করলেই প্রেসিডেন্ট পদ যাবে ট্রাম্পের

0
98

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তকারী রবার্ট মুলারকে বরখাস্ত করলেই প্রেসিডেন্সি যাবে ট্রাম্পের। রোববার নিজ দল রিপাবলিকানের নীতি নির্ধারণকারীরাই এ চরম হুশিয়ারি দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ছিল কিনা মুলারের এ তদন্ত বন্ধে হস্তক্ষেপ করবেন ট্রাম্প।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নিলেন রিপাবলিকানরা। সিএনএন, বিবিসি।

রিপাবলিকান দলের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ‘কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই মুলারকে এ তদন্তের অনুমতি দেয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন অনেক রিপাবলিকান।’ এ ছাড়াও মুলারের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বাদ দেয়ার জন্য ট্রাম্পকে সতর্ক করেন তিনি। গ্রাহাম আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প এটা করার চেষ্টা করেন, তাহলে তার প্রেসিডেন্ট পদ শেষ হবে।’

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল বলে মনে করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাদের দাবি, ট্রাম্পকে জিতিয়ে দিতেই এ হস্তক্ষেপ। ট্রাম্প শুরু থেকেই এটাকে ‘রাজনৈতিক হয়রানি’ অভিহিত করে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

চলতি সপ্তাহে করা এক টুইটে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘তার দল এবং রাশিয়ার মধ্যে কোনো আঁতাত ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে ডেমোক্রেটরা প্রভাবিত করছে।’ এর আগে রবার্ট মুলারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে মুলারকে বরখাস্তের সংবাদ মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি। মুলারের তদন্তকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর একদিন আগে ট্রাম্পের আইনজীবী জন ? ডুড বলেন, বিশেষ কৌঁসুলির তদন্ত এখনই শেষ করা উচিত। প্রথমে এটিকে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য হিসেবে বললেও পরে তিনি দাবি করেন তিনি নিজেই তা মনে করেন। আগের টুইট বার্তায় ট্রাম্প এফবিআইয়ের সাবেক সহকারী পরিচালক অ্যান্ড্র– ম্যাকাবির সমালোচনা করেন। তাকে অবসরের মাত্র দু’দিন আগে শুক্রবার বরখাস্ত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস। এছাড়া এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমিরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। কমিকে গত বছর বরখাস্ত করা হয়। এদের বরখাস্তের মাধ্যমে মুলারের তদন্তে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হয়।

আলোচনায় বসবে দুই কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র : পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস–্যতে আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ফিনল্যান্ডে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার এ খবর দিয়েছে সিএনএন । ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিমো লাহডিভিরতা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় যে মার্কিন প্রতিনিধিরা থাকবেন তারা সরকারি কর্মকর্তা নন।

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কূটনীতিক মিশন নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এই আলোচনাটি হবে দ্বিতীয় স্তরের। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্রও বৈঠকে অংশ নেবে। তবে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিশদ কোনো তথ্য জানায়নি।

কিমো লাহডিভিরতা এই বৈঠককে ‘ট্র্যাক ১ দশমিক ৫ একাডেমিক বৈঠক’ বলে অভিহিত করেছেন, যাতে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেবে। তথাকথিত এই ‘ট্র্যাক ১ দশমিক ৫ একাডেমিক বৈঠকে’ সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের সংমিশ্রণে প্রতিনিধি দল থাকবে বলেও জানিয়েছেন কিমো।