মুনার ওয়েলকাম রমাদান অনুষ্ঠান

0
257

1465190041_muna_2নিউইয়র্ক: ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মানব সন্তানকে সুস্থ, সবল ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা সব পিতা-মাতার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। সন্তান প্রতিটি পিতা-মাতার কাছে জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তেমনি সন্তানের কাছে তার পিতা-মাতা আশীর্বাদস্বরূপ। গত ১ জুন বুধবার জ্যাকসন হাইটসের নান্দুস পার্টি হলে মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা) আয়োজিত ওয়েলকাম রমাদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন।মুনা’র ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডা: সাইদুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, লন্ডন থেকে আগত ব্যারিষ্টার হামিদ হোসাইন আজাদ, সংগঠনের ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু আহমেদ নুরুজ্জামান, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট আব্দুল আজিজ ভূইঁয়া, ডা:মাসুদুর রহমান, মুফতি ইসমাঈল, মাওলানা জাকারিয়া মাহমুদ, শরীফ ফয়জুল্লাহ, পুলিশ অফিসার হুমায়ন কবির,  বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মুনার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন। অনুষ্ঠান যৌথভাবে পরিচালনায় করেন আবু সামীহাহ্ সিরাজুল ইসলাম ও আহমেদ আবু ওবায়দা।

বক্তারা বলেন, পবিত্র কুরআন-হাদিসে আলোকে পারিবারিক জীবন গঠণের গুরুত্বারোপ করে তারা বলেন, পরিবারের মধ্যে মায়া-মমতা আল্লাহর বিশাল কুদরত। প্রত্যেক আদম সন্তান মুসলিম স্বভাব নিয়েই জন্ম গ্রহন করে। সন্তান মানুষ হওয়াই বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিদান। তাই পিতা-মাতার দায়িত্ব হচ্ছে তাদের লালন-পালন করা, তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামের আলোকে নৈতিক চরিত্র গঠন করা। পারিবারিক পরিবেশে শিশুরা বড় হতে থাকবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধও তাদের হৃদয়ে জাগ্রত হবে। বর্তমান সমাজে ঈমানের উপর ঠিকে থাকা বড় কঠিন।

পরিবর্তিত পৃথিবীর আলোকে চলতে পারলেই আল্লাহর রহমত সম্ভব।বক্তারা ইসলাম ধর্ম প্রচারের পাশাপাশি সমাজ কল্যাণমূলক কাজের গুরুত্বারোপ করে বলেন, সমাজের প্রত্যেক শ্রেণীর লোকদের সাথে মিশে প্রমাণ করতে হবে আমরা দায়ী ইল্লালাহের কাজ করছি। সমাজের চাহিদা কি তা চিহিৃত করে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। প্রতিবেশীর সাথে রাখতে হবে সুসর্ম্পক, আর এটাই ইসলামের নৈতিক শিক্ষা। বর্তমান সমাজে দ্বীনি কাজ সম্প্রসারণে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিশুদ্ধ ঈমান আর জাহিলিয়াতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কুরআন-হাদিসের জ্ঞানার্জনের দিকে বিশেষ নজর রাখার তাগিদ দেন আলোচকবৃন্দ।

এছাড়া আমেরিকায় ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়া নিরসনে কমিউনিটি লিডার ও ইমামদের করণীয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে সৌর্হাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা নিয়ে ব্যাপাক আলোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে ডা: সাইদুর রহমান চৌধুরী মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা)’র সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরে বলেন, মুনা ভাল কাজের সহযোগি হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চায়। আমরা চাই পরস্পর ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসা। তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে মধ্যমপন্থী জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন,যেন আমরা মানুষের স্বাক্ষী হিসেবে থাকবে পারি। তিনি বলেন, আমেরিকায় বসবাসকারী মুসলমানেরা নিজেদের স্বার্থে অন্যদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরী। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে না থাকতে পারি তাহলে আমরা (মুসলমান) নিজেরাই ক্ষতিগ্রন্থ হওয়ার সম্ভবনা বলে আমি মনে করি। অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তি কামনা করে দোয়া করেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত ছারছিনা দরবারের পীর মাওলানা সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা জুনায়েদ, তরজুমা করেন নূরুল আনোয়ার। বক্তব্যের ফাঁকে হামদ ও নাত পেশ করেন ডা: আতাউল ওসমানী, ইকবাল হোসেন, সাফায়েত হোসেন সাফা।

অনুষ্ঠানে ইমাম ও কমিউনিটির লিডাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা ফায়েক উদ্দিন, মাওলানা মোস্তফা হোসাইন, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা জুনায়েদ হোসাইন, মাওলানা আবুল কালাম, হাফেজ ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা ইব্রাহিম, মাওলানা রশীদ আহমদ, ড: আবুল কাশেম, ব্যারিষ্টার গোলাম মোস্তফা, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, বিএনপি নেতা কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান নান্নু, আলহাজ্ব বাবর উদ্দিন, আলহাজ্ব আবু তাহের, কমিউনিটি নেতা হাজী মফিজুর রহমান, আব্দুল আজিজ ওসমানী, হেলাল উদ্দিন, আব্দুল হান্নান পান্না, আব্দুস সালাম, কাজী এনামুল হক, ইউসুফ জসীমসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মীর মাসুম, আরমান চৌধুরী, হারুনুর রশিদ, আবু সামীহাহ সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল আরিফ, মাহবুবুর রহমান, ফখরুল ইসলাম, আবু বকর দিদারসহ নিউইয়র্ক জোনের কর্মকর্তাবৃন্দ।