মুগাবেকে পদত্যাগে রাজি করানো হয় যেভাবে, সেনা হস্তক্ষেপ বৈধ ছিল : সুপ্রিমকোর্ট

0
68

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: জিম্বাবুয়েকে গত ৩৭ বছর ধরে কঠোর হাতে শাসন করার পর গত সপ্তাহে দেশটির প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে পদত্যাগ করেন। মুগাবের বহুল প্রত্যাশিত এই পদত্যাগের পেছনে দেশটির এক খ্রিস্টান পুরোহিতের বড় ধরনের ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে। রেভারেন্ড ফিদেলিস মুকোনোরি নামের এই পুরোহিতই মুগাবের পদত্যাগে মধ্যস্থতা করেছিলেন বলে এক প্রতিবেদনের জানিয়েছে সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিম্বাবুয়ের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধকালে একজন তরুণ পুরোহিত হিসেবে ফিদেলিস মুকোনোরি যুদ্ধের সহিংসতার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছিলন। এই খবর সে সময়ের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা মুগাবের কাছেও পৌঁছে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর দেশের শাসন ক্ষমতায় আসেন সংগ্রামী নেতা মুগাবে। কয়েক দশক পরে এসে ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে মুগাবেকে প্রভাবিত করেন সেই মুকোনোরিই।

জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থান ও ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের পর নিজের প্রথম সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মুকোনোরি। কিভাবে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্টের বাসভবন, স্টেট হাউস ও মুগাবের ব্যক্তিগত বাড়িতে মুগাবের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিতর্ক ও আলোচনা করেছেন এই সাক্ষাৎকারে তিনি তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন প্রধান মধ্যস্থতাকারী। কারণ প্রেসিডেন্ট মুগাবে ও দেশটির সেনাবাহিনী উভয় পক্ষেরই তার প্রতি আস্থা ছিল। ৭০ বছর বয়সী এই খ্রিস্টান পুরোহিত জানান, অতীতেও জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীগুলোর মধ্যে অনেক সংকটে তিনি মধ্যস্থতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাঙব তবু মচকাব না। এর আগেও এ কাজ আমি করেছি।’ মুকোনোরি জানান, মুগাবেকে পদত্যাগে রাজি করানোর ক্ষেত্রে তার কৌশল ছিল, মুগাবের সঙ্গে কখনও তর্ক না করা বরং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। এবং এভাবে তাকে বোঝোনোর চেষ্টা করা যে, তিনি সম্মানের সঙ্গে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন।

মুকোনোরি বলেন, মুগাবে একাধারে একজন ভালো বিতার্কিক ও একজন চিন্তক। তিনি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কথা বলেন। সেটা অনেকটা দার্শনিকের মতো। তবে আমাদের মূল বিষয় ছিল, তার শাসনাধীনে জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে কি ঘটছে তা প্রেসিডেন্ট মুগাবেকে দেখানো। কেননা রাজনীতির মধ্যে সেনাবাহিনী ঢুকে পড়ায় একটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।’ গত মঙ্গলবার মুগাবে যখন পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তখনও তিনি সেনাবাহিনীর কাছে গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন। সেনাসদস্যরা পার্লামেন্ট ভবন ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে অবস্থায় নেয়। মুকোনোরি বলেন, ‘আসল ঘটনা হচ্ছে, সেনাবাহিনী তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিল। মুগাবেও দ্বিমত করেননি যে, এর পেছনে কিছু বিষয় অবশ্যই ছিল। তবে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন, সমস্যার সমাধান কেন এভাবে হতে হবে।’

স্পষ্ট সেনা অভ্যুত্থান সত্ত্বেও সেনাবাহিনী সেই সময় বারবার দাবি করে যে, এটা কোনো সেনা অভ্যুত্থান নয় বরং তাদের পদক্ষেপ ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনের একটি উদ্যোগ। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল, হয় মুগাবে পদত্যাগ করবেন অথবা পার্লামেন্টে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অভিশংসিত হবেন। এক্ষেত্রে যতই দিন যাচ্ছিল, কিছু একটা করতে মুকোনোরি ও সেনা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ ততই বাড়ছিল। মুকোনোরি বলেন, সে সময় তিনি মুগাবেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর হিসেবে জিম্বাবুয়ের প্রতি তার অবদানের কথা বারবার উল্লেখ করেন। এতসব সত্ত্বেও মুগাবে যেন আরও কিছু দিন ক্ষমতা আকড়ে থাকতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অবশেষে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যায় বলে জানান মুকোনোরি।

এদিকে জিম্বাবুয়ের হাইকোর্ট এক রায়ে বলেছেন, মুগাবেকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে দেশটির সেনাবাহিনীর গৃহীত পদক্ষেপ বৈধ ছিল। উচ্চ আদালতের অন্য এক রায়ে বলা হয়েছে, মুগাবের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়ার বরখাস্তকরণ অবৈধ ছিল। এএফপি জানায়, এই রায়ের ফলে দেশটির নতুন প্রশাসনের অধীনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।