মিয়ানমারের কাছে প্রত্যাশিত ব্যবহার পায়নি বাংলাদেশ

0
85

ঢাকা: পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেছেন, ‘মিয়ানমারের কাছ থেকে যে ধরনের ব্যবহার বাংলাদেশ আশা করেছিল সেটা পাওয়া যায়নি। মিয়ানমারের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো রেসপন্স (প্রতিক্রিয়া) আশা করেছিলাম। তারপরও আমরা সন্তুষ্ট।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের মিয়ানমার সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘শান্তি ও সম্প্রীতিতে নারী’- স্লোগানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বিষয়ে তিনি বলেন, কাজ চলছে। এটি গঠনের সময় নির্ধারণ করে দেয়া আছে। তবে সমস্যা সমাধানের শর্টকাট রাস্তা নেই।

আমাদের দেশের মানুষ আটকা পড়লে আমরাও বলি যাচাই-বাছাই করতে হবে। কারণ, আন্তর্জাতিক নিয়মগুলো সেভাবেই তৈরি করা আছে। সবাইকে একসঙ্গে ধরে পাঠিয়ে দেয়ার অবকাশ নেই। উল্লেখ্য, নভেম্বরের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন সম্পন্ন হবে বলে দু’পক্ষ একমত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফরের সময় এটি নির্ধারিত হয়।

সমস্যাটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘায়িত শব্দটি আপেক্ষিক। আগে এ ধরনের প্রক্রিয়া ঘটনার অনেক দিন পরে শুরু হতো, এবার দেড় মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াটি শুরু করতে পেরেছি। এটি ভালো লক্ষণ। এটি কতটুকু গতিশীলতা পাবে আমরা দেখব। কিন্তু গতি আরও বাড়ানোর জন্য যে বহুপাক্ষিক চাপ রাখা দরকার সেটি আমরা রেখেছি।’

আর্ন্তজাতিক চাপ বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চাপ বন্ধ হলে কি হবে সে বিষয়ে জল্পনা-কল্পনা করাটা ঠিক হবে না। এ অবস্থায় এ সময় যে ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা রাখা দরকার সেটি সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে। মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আগে দেখা যাক নিরাপত্তা পরিষদে কে কি অবস্থান নেয়, তারপর এ বিষয়ে কথা বলা যাবে। আমাদের প্রত্যাশা সব দেশ মিলে একটি শক্ত ব্যবস্থা নেবে।’ আলোচনা সভায় ইউএন উইমেন আয়োজিত নিরাপত্তা কাউন্সিল রেজ্যুলেশন-১৩২৫ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এর অধীনে আমরা নারীদের ক্ষমতায়ন বিষয়ে জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করছি। এটা মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করব।

এ ধরনের অ্যাকশন প্ল্যান সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ সভায় উপস্থাপন করা হয় না। কিন্তু যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক ডকুমেন্ট (নথি), আমরা চাই দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি এটি অনুমোদন করুক।’ ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শোকো ইশিকাওয়ার সভাপতিত্বে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা, ঢাকাস্থ পররাষ্ট্র মিশনগুলো এবং সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ আলোচনা সভায় যোগ দেয়।

অনুষ্ঠানে নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, ‘ইউএন ওমেনসহ অন্য নারী সংগঠনগুলোর এ কাজে এগিয়ে আসা উচিত। নারী সংগঠনগুলো কাজ না করলে নারীদের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।’