মিসবাহদের ধুয়ে দিলেন পাকিস্তানের সাবেক কোচ ও ক্রিকেটাররা

0
273

3442700স্পোর্টস ডেস্ক: পাকিস্তানের কাছে প্রথম টেস্টে লজ্জাজনকভাবে হেরেছিল ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের ‘মক্কা’ হিসেবে খ্যাত লর্ডসে চার দিনেই স্বাগতিকদের হারিয়েছিল পাকিস্তান। এবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডেও চার দিনে জিতল ইংল্যান্ড। তবে জয়ের ব্যবধানটা বিশাল। সোমবার ৩৩০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে লর্ডসের প্রতিশোধটা দারুণভাবেই নেয় অ্যালিস্টার কুকের দল।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দলের এহেন বাজে পারফরম্যান্সের কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক কোচ ও ক্রিকেটাররা। সাবেক কোচ ওয়াকার ইউনিস, মহসিন খান, রশিদ লতিফ, পেসার শোয়েব আখতারসহ অনেকেই সমালোচনা করে বলেছেন দলের ব্যাটিংয়ের চিত্র পুরোপুরি ফটে উঠেছে।

পাকিস্তান দলের সাবেক কোচ ওয়াকার বলেন দলের এমন লজ্জাজনক ব্যাটিংয়ের কোন অজুহাত থাকতে পারে না এবং তিনি এটাকে ‘মেরুদন্ডহীন’ হিসেবে অভিহিত করেন, ‘আমি বলছি না এই ম্যাচ আমাদের জেতা উচিত ছিল। তবে এটা পরাজয়ের ধরন হতে পারে না। মেরুদন্ডহীন ব্যাটিং ইংল্যান্ড বোলারদের অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে।’

পাকিস্তানের সাবেক তারকা পেসার শোয়েব আখতার বলেন, ‘একজন পাকিস্তানি বিবেচেনায় পুরো ম্যাচেই কোন পরিকল্পনা দেখা যায়নি। পাশাপাশি ইংল্যান্ড বোলারদের সামনে আমাদেও ব্যাটিং দৈন্যটা পুরোপুরি ফুটে উঠেছে। আপনি বলতে পারেন আমাদের ব্যাটিংয়ের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে এবং বাউন্সি পিচের কারণে তা আরো ভালভাবে ফুটে উঠেছে, আর কিছু নয়। বাউন্সি পিচে আমাদের ব্যাটিং লাইনআপ সব সময় সমস্যায় পড়ে যে কারণে আমরা ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় ভাল করতে পারিনি।’

একই সঙ্গে বোলারদের পারফরমেন্সেও হতাশা প্রকাশ করেন আখতার। তিনি বলেন, ‘ওল্ড ট্রাফোর্ডের পিচে কিভাবে বোলিং করতে হয় তেমন কোন পরিকল্পনা ছিল না, বোলিংয়ের লাইন ঠিক ছিল না এবং পুরো ইংল্যান্ড ইনিংসেই কোন এ অভিপ্রায় দেখা যায়নি।’

সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা মনে করেন এ পরাজয়টা ছিল পাকিস্তান ক্রিকেটের দুর্দশার ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে- আমাদের খেলোয়াড়রা ভিন্ন ধর্মী কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না। এবং যথা রীতি ধারাবাহিকভাবে এ সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইংল্যান্ড কেবলমাত্র এ ম্যাচে অনেক ভাল প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। লো বাউন্সের কারণে লর্ডসের কন্ডিশন পাকিস্তান ভালভাবে মনিয়ে নিতে পেরেছে। তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডের পিচ থেকে অনেক বেশি বাউন্স পাবে বলে তারা নিশ্চিত ছিল।’

কেবলমাত্র নিজেদের তুলে ধরতে না পারায় পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের সমালোচনা করেন আরেক সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফও। এমন পিচে বড় স্কোর গড়তে না পারাকে অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে দেখছেন তিনি।

বললেন, ‘এ মাঠে আমি ইউনিস খান ও আসাদ শফিকের মত মেধাবী ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে সেঞ্চুরি প্রতাশা করেছিলাম। পিচ ব্যাটিং সহায়ক ছিল। ইউনিসের ব্যাটিংয়ের কোন ধরন আমি বুঝতে পারলাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম টেস্টে হেরেও ঘুরে দাঁড়ানোর পর ইংল্যান্ড এখন আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। চার ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে হলে এজবাস্টনের তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে এখন অতি অসাধারন খেলতে হবে।’

সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান রশিদ লতিফ অবশ্য মনে করছেন না পাকিস্তান সিরিজ থেকে ছিটকে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই ম্যাচ এখনো বাকি আছে এবং পাকিস্তান দলের অনেক সম্ভাবনা আছে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ব্যাটিং ভাল হয়নি এবং খারাপ করার জন্য ব্যাটসম্যানরা কোন অজুহাত দাঁড় করাতে পারবে না। তদের এক সঙ্গে বসতে হবে এবং নতুন করে শুরু করতে হবে। ভাল একটা সূচনার পরও হাফিজ ও ইউনিসের মত সিনিয়র খেলোয়াড়রা তাদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছে এ পর্যায়ে সেটা মেনে নেয়া যায় না।’

সাবেক টেস্ট ওপেনার ও প্রধান কোচ মহসিন খানের মতে, চাপের মধ্যে পাকিস্তান দল ধ্বসে পড়েছে এবং ব্যাটসম্যানরা প্রতিপক্ষের বোলারদের উপর চড়াও হতে চেষ্টা করেনি।বললেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা এ টেস্টে চাপ নিতে পারেনি। এমন পর্যায়ে র‌্যাংকিংয়ের তৃতীয় স্থানে থাকা একটি দলের কাছে আপনি মান সম্মত ব্যাটিং আশা করবেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে আমরা যা দেখলাম ক্রিকেট ভক্তদের জন্য তা হতাশার।’

পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটিং কিংবদন্তি হানিফ মোহাম্মদ পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রহকারী ইউনিসের সমালোচনা করে বলেন, ‘এই বয়সে ও সময়ে নিজের ব্যাটিং কৌশল পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা তার উচিত হয়নি এবং সেটা ইংল্যান্ডের মাটিতে। এটা মানিতে নিতে তার জন্য কস্টকর হবে।’