মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

0
68

স্পোর্টস ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েসের জোড়া হাফসেঞ্চুরির ওপর ভর করে একটা আশা জেগেছিল। ৯৩ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ তিন উইকেটে ২৯ ওভারে ১৬২ রানে পৌঁছে যায়।

কিন্তু মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ৪৭.৫ ওভারে ২৪৯ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারী বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-০-তে নিশ্চিত করে দ. আফ্রিকা।

ইনিংসের ৮ম ওভারে দলীয় ৪৪ রানের মাথায় তামিম ইকবাল সাজঘরে ফেরেন। ১১তম ওভারে লিটন দাস দলীয় ৬৯ রানে আউট হন। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুশফিক-কায়েস দলের জন্য মূল্যবান ৯৩ রানের জুটি গড়ে তোলেন।
২৯তম ওভারে ইমরুল বিদায় নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা স্পিনার ইমরান তাহিরের বলে ডি ভিলিয়ার্সের ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ৬৮ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস খেলেন ইমরুল। তার ইনিংসটি ছিল ৬টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো।

ইমরুলের বিদায়ের পর ক্রিজে আসা সাকিব সবাইকে হতাশ করে ব্যক্তিগত ৫ রানে সাজঘরে ফেরেন।

৩৪তম ওভারে দলীয় ১৮৪ রানে মুশফিকের বিদায়ের পর টাইগার ইনিংসের হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা মুশফিকুর রহিম এ ম্যাচে ৬০ রান করে প্রেটোরিয়াসে বলে সাজঘরে ফেরেন।

কিন্তু ৪১তম ওভারে সাব্বিরের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ‘কিছু একটা’ ঘটানোর আশাও একেবারে শেষ হয়ে যায়। ৪৪তম ওভারে নাসির ১১ বলে মাত্র ৩ রান করে সরাসরি বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

বুধবার পার্লে প্রোটিয়াদের করা ৩৫৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৪ রানেই ভেঙে যায় উদ্বোধনী জুটি। দলীয় ৪৪ রানে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। দলীয় ২৭ রানের মাথায় লাইফ পাওয়া তামিম ২৫ বলে ২৩ রান করে প্রেটোরিয়াসের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন।

তামিম ইকবালের বিদায়ের পর ক্রিজে আসা লিটন দাসও তেমন সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র ১১ রান করে তিনি বিদায় নেন।
দলীয় ৪৪ রানে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ১০ উইকেটের রেকর্ড গড়া হারের পর দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে পরে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় মাশরাফিরা। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি, হাশিম আমলার দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও এবিডি ভিলিয়ার্স ঝড়ো ইনিংসে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫৩ রান করে স্বাগতিকরা।

আমলা ৯২ বল খেলে ৮৫ রান করে রুবেলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। তার ইনিংসটি ৪টি চারের মারে সাজানো।

এরপর শুরু হয় ভিলিয়ার্সের তাণ্ডব। ৬৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবি। শতরান করতে ১০টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

একসময় মনে হয়েছিল ডাবল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়বেন তিনি। তবে তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেন রুবেল হোসেন। এবিকে অন্তত ডাবল সেঞ্চুরি বঞ্চিত করতে পেরেছেন তিনি।

এবি মাত্র ১০৪ বল খেলে ৭টি ছক্কা ও ১৫টি চারের সাহায্যে ১৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। যা তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। এ ছাড়াও ডি কক ৪৬ রান করেন।

বাংলাদেশের হয়ে রুবেল হোসেন ৪ উইকেট নিয়ে সফল বোলার। এছাড়া সাকিব আল হাসান নেন ২টি উইকেট।