মার্কিন কমান্ডারের হুশিয়ারি, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ আসন্ন

0
53

ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা নীতি অবশ্যই আক্রমণাত্মক: পুতিন * ট্রাম্প বিশ্বকে দাবিয়ে রাখতে চাচ্ছেন: উ কোরিয়া * আমেরিকা বোকার মতো মধ্যপ্রাচ্যে অর্থ খরচ করেছে: ট্রাম্প

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন এক শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সেনা কমান্ডার।

মার্কিন মেরিন কোরের কমান্ডার জেনারেল রবার্ট নিলার বৃহস্পতিবার নরওয়ে সফরে সেখানে মোতায়েন মার্কিন মেরিন সেনাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ হুশিয়ারি দেন।

জেনারেল নিলার তার বাহিনীকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তার এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন সরকার এ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে রাশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে প্রাধান্য দিতে যাচ্ছে।

রাশিয়া ও চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের কয়েকদিন পরই নরওয়ে সফরে যান জেনারেল নিলার।

যুক্তরাষ্ট্রের এ নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের ব্যাপক সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও চীন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ট্রাম্প সম্প্রতি যে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতি ঘোষণা করেছেন, তা অবশ্যই আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসীমূলক। মিলিটারিডটকমের বরাত দিয়ে ভাইস নিউজ এ খবর দিয়েছে।

জেনারেল নিলার বলেন, ‘আমি আশা করছি, আমার কথা ভুল প্রমাণিত হোক। কিন্তু (বাস্তবতা হচ্ছে) একটি যুদ্ধ অত্যাসন্ন।’

তিনি রাশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরকে ‘পরবর্তী বড় ধরনের সংঘাতের এলাকা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন আর আমাদের দৃষ্টি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নেই।’

তবে আরও কিছুদিন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু সেনা প্রত্যাহার করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে যখন রাশিয়া সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন মার্কিন সেনা কমান্ডার এ বক্তব্য দিলেন।

রাশিয়া নরওয়েকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দেশটিতে যেন মার্কিন সেনা মোতায়েন করা না হয়। কিন্তু জেনারেল নিলার বলেছেন, ওয়াশিংটন চাইলে যে কোনো সময় নরওয়েতে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যাকে ৩০০ থেকে তিন হাজারে উন্নীত করতে পারে।

ট্রাম্প নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে ‘গোটা বিশ্বকে দাবিয়ে রাখতে চাচ্ছেন’ বলে মন্তব্য করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে ‘বিপর্যয়কর শক্তি’ ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া ওই কৌশল ‘অপকর্মের দলিল’ বলে মন্তব্য করেছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির হুমকি যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলা করতে হবে।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল আসলে ‘আগ্রাসনের ঘোষণা ছাড়া আর কিছুই না।’

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘টুঁটি চেপে ধরে উত্তর কোরিয়াকে দমন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর  আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা কোরীয় উপদ্বীপকে তাদের ফাঁড়ি বানাতে চাচ্ছে।’

এ নীতির সমালোচনা করে পুতিন বলেন, মস্কো সময়মতোই এ বিষয়ে নিজের অবস্থান গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, আমাদের উচিত ‘ফার্স্ট আমেরিকা’ নীতিকে বিবেচনায় নেয়া।

সম্ভাব্য যে কোনো হুমকির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ও সময়মতো অবস্থান গ্রহণের সার্বভৌম অধিকার আছে রাশিয়ার। এদিকে জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত বাতিল করে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকা বোকার মতো মধ্যপ্রাচ্যে সাত সাত ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।

তিনি বলেন, ‘এ অর্থ ব্যয় আমাদের দেশ পুনর্নিমাণের পরিবর্তে দুই দলের ফ্যাশন হিসেবে কাজ করেছে।’ শুক্রবার এক টুইটার বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি ধারণা করি একটা পর্যায় থেকে দেশের কল্যাণের জন্য আমরা দ্বিদলীয় ফ্যাশন হিসেবে ডেমোক্রেট দলের সঙ্গে কাজ করতে পারব

। তিনি বলেন, দেশ নির্মাণের ক্ষেত্রে অবকাঠামো দিয়ে শুরু করাই হবে সঠিক পদক্ষেপ।