মানবাধিকার ইস্যু: মিশরের ২৯ কোটি ডলার অনুদান স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

0
53

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: মিশর মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটিকে প্রদেয় ২৯ কোটি ডলারের অনুদান আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর মধ্যে নয় কোটি ৫৭ লাখ ডলারের অনুদান বাতিল এবং আরও সাড়ে ১৯ কোটি ডলার প্রদানে বিলম্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এ বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মিশরের নাগরিক স্বাধীনতা, নতুন এনজিও আইন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি দমানাভিযানের বিষয়ে কায়রোর আচরণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হতাশার প্রতিফলন বলে দাবি সূত্রের।

এ দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কথা জানান।

সূত্র মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ অর্থ বছরের বিদেশি সামরিক অর্থায়ন তহবিলের (এফএমএফ) ছয় কোটি ৫৭ লাখ ডলার এবং ২০১৬ অর্থ বছরের  অর্থনৈতিক সহায়তা তহবিলের (ইএসএফ) তিন কোটি ডলার পুনঃবণ্টন করবে।

পুনঃবণ্টনের মানে হলো এসব তহবিল আর মিশরে পাঠানো হবে না, বরং এসব অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অন্য কোথাও ব্যবহৃত হবে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন পৃথক আরেক সিদ্ধান্তে ২০১৬ সালের এফএমএফ তহবিলের সাড়ে ১৯ কোটি ডলার মিশরকে হস্তান্তর স্থগিত করে দিয়েছে।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর চলতি অর্থ বছর শেষ হয়ে যাবে। এর মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করা না হলে এটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে।

গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনে নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে মিলিত হন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম মিশরীয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে পাদ প্রদীপে আসেন সিসি। তার শাসনামলে মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড সদস্যরা গণগ্রেফতার, গণমৃত্যুদণ্ড ও ব্যাপক দমনাভিযান মুখে পড়েছেন।

কিন্তু প্রথম সাক্ষাতে সিসির ভূমিকার প্রশংসা করেন ট্রাম্প। এমনকি তিনি মিশরীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রকাশ্য আলাপে মানবাধিকারের বিষয়টি উল্লেখও করেন।

তবে সিসি গত মে মাসে একটি নতুন এনজিও আইনকে কার্যকর করায় দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়।

জানা গেছে, মানবাধিকার গ্রুপগুলো এবং অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করে আসছিলেন যে এই আইনটি কার্যকর হলে তাদের কাজ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন কর্মকর্তাদের আইনটি কার্যকর হবে না বলে আশ্বস্ত করে ছিলেন মিশরীয় কর্মকর্তারা।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিসি আইনটি কার্যকর করার অনুমোদন দিলে মার্কিন কর্মকর্তারা নাখোশ হন।

প্রসঙ্গত, মিশর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট সুয়েজখাল নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রধান মার্কিন মিত্র ইসরাইলের সঙ্গে তাদের সীমান্ত রয়েছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েছে দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান বাস্তবতায় মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সখ্যতা বজায় থাকবে। তবে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র ইস্যুতে দেশটিকে যে যুক্তরাষ্ট্র চাপের মুখে রাখবে তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here