মহাসড়কে চালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0
34

ঢাকা: দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের পাশে বাস এবং ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে সংশ্নিষ্টদের প্রতি এ নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকচালকরা কিছু দূর পর পর যাতে বিশ্রাম নিতে পারেন, সেজন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ করতে হবে। এটি হলে কিছু সময়ের জন্য চালকরা বিশ্রাম নিতে পারবে। তাদের মন প্রফুল্ল থাকবে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাশের দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশে বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশে এটা এখনও চালু হয়নি। নির্দিষ্ট দূরত্বে এসব বিশ্রামাগার নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক বৈঠকে আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দক্ষিণ এশীয় সড়ক সংযোগের (সাসেক) আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। জয়দেবপুর হতে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার ২ লেনের সড়ককে চার লেন করতে ২০১৩ সালে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন ব্যয় ছিল ২ হাজার ৭৮৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পরবর্তীকালে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৩ হাজার ৩৬৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। বর্তমানে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯৯৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত।

এদিকে বৈঠকে খুলনা-দর্শনার বিদ্যমান ১২৬ কিলোমিটার রেললাইনকে ডাবল লেনে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এ রুটে সিঙ্গেল লাইনের কারণে দুটি ট্রেন চলাচলে দীর্ঘ সময় লাগে। ডাবল লাইন নির্মাণ সম্পন্ন হলে যাত্রীর দুর্ভোগ কমবে, সময় বাঁচবে। ভারত সরকারের প্রতিশ্রুত দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে মোট খরচ হবে ৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা আসবে ভারত থেকে। বাকি ৮২১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে মোট ১৩টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৈঠকে ঢাকার সাভারে জাতীয় জিন ব্যাংক স্থাপন শিরোনামে আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৪৬০ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এ অর্থ জোগান দেওয়া হবে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, জিন ব্যাংক তৈরির ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৬ তলা ভবন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি সাশ্রয় করতে অনেক ভবন না করে উপরের দিকে বাড়াতে হবে।

বৈঠকে সাসেক সড়ক সংযোগ দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৭ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৪২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।