মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির পথে হাঁটছেন ট্রাম্প

0
23

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমে এক অনুষ্ঠানে রেকর্ড করা এক বার্তায় বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের সর্বোচ্চ আশা।

কিন্তু সত্যিকার অর্থে তিনি সেই পথে হাঁটছেন না। মূলত ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই এখানে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই পূরণ করেছে। জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের এই পদক্ষেপের পেছনে শক্ত লবিং ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।-খবর বিবিসি বাংলার।

বিশেষ করে ডানপন্থী আমেরিকান ইহুদি যারা রক্ষণশীল বার্তা দেন, তাদের একটি প্রভাব রয়েছে ট্রম্পের নীতিনির্ধারকদের ওপর।

খ্রিস্টান ধর্ম যারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস ও পালন করেন, জেরুজালেম নিয়ে তাদের যে বক্তব্য আছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সেই বক্তব্য ধারণ করেন।

তিনি বলেন, তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে রাজা ডেভিডের আমলে ঈশ্বরের সিদ্ধান্তে জেরুজালেম ছিল ইসরাইলের রাজধানী। ডালাসের ধর্মপ্রচারক রবার্ট জেফ্রিজ বাইবেল উদ্ধৃত করে আমাকে বলেছিল।

শান্তি প্রক্রিয়া কি তা হলে এগোবে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রেকর্ডকৃত বার্তায় শান্তিপ্রতিষ্ঠায় চুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছিলেন।

জেরুজালেমের সমস্যা সমাধানে সবপক্ষের জন্য একটি শক্ত চুক্তির কথাও তিনি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু হোয়াইট হাউস এখনও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এমনকি কোন পথে সমাধান সম্ভব, যুক্তরাষ্ট্রই বা কীভাবে সমাধান চাইছে, সে ব্যাপারে হোয়াইট হাউস কিছুই বলছে না।

হোয়াইট হাউস সমাধানের উপায় তৈরি করছে বলেই বলা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাবেক একজন মধ্যস্থতাকারী ডেভিড মিলার বলেছেন, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং তার আইনজীবী মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের বাস্তবতা বুঝিয়ে সমাধানের উপায় বের করা যেতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করার ফলে জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন জেরুজালেমের সীমানা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে।

কিন্তু ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ফিলিস্তিনিদের হতাহতের যে ঘটনা ঘটেছে, সেই প্রেক্ষাপটে তারা এখন শোকাহত ও ক্ষুব্ধ। তাদের পক্ষে অন্য কোনো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করার সম্ভাবনা কম।

তা হলে পরিস্থিতি কী বিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছে?

গাজা সীমান্তে সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, তাতে তারা ইসরাইলের পক্ষ নিয়েছে।

হোয়াইট হাউস গাজার হামাস নেতাদের দায়ী করে বলেছে, তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‌ইসরাইলকে উসকানি দিয়ে এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

গত ২৫ বছর ধরে কথা চললেও জেরুজালেম নিয়ে কোনো সমাধান হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারগুলোও সবসময় ইসরাইলের পক্ষ নিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এখন খারাপের দিকেই এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here