ভ্যাট নিয়ে অসন্তোষ, ব্যবসায়ীদের মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে

0
321

234626sompa-1আগামী ২ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার কথা রয়েছে। সে হিসাবে আর মাত্র চার দিন বাকি। অথচ এখনো ভ্যাট আরোপ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের কোনো সমঝোতা হয়নি। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, যেভাবে ভ্যাট আরোপ ও আদায়ের কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, তা মোটেও ব্যবসাবান্ধব নয়। তাঁরা সরকারকে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো অগ্রগতি নেই। তাই ব্যবসায়ীরা বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, প্রস্তাবগুলো বিবেচিত না হলে তাঁরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

অথচ সপ্তাহখানেক আগেই প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতায় আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলেই জানা যায়। আগের বছরগুলোতে, এমনকি চলতি অর্থবছরেও বাজেটে রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত ছিল আয়কর। আসন্ন বাজেটে প্রধান খাত করা হচ্ছে ভ্যাটকে। ফলে একদিকে ভ্যাট আরোপের পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে ভ্যাটের আওতা বাড়ছে। পাশাপাশি ভ্যাট আদায়ে আগে যে প্যাকেজ পদ্ধতি ছিল সেটিও বাতিল করে সরাসরি বিক্রি থেকে ভ্যাট আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এতে ভ্যাট প্রদানে জটিলতা বাড়বে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কর সংগ্রহকারীদের হয়রানি বেড়ে যাবে।

পাশাপাশি ক্ষুদ্র উত্পাদনকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোনো উল্লম্ফন বা চাপিয়ে দেওয়া অনেক সময়ই ভালো ফল দেয় না। ব্যবসায়ীরাও সেই আশঙ্কা থেকে বলেছেন, এতে ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্বপ্রাপ্তি না বেড়ে বরং কমে যেতে পারে। আমরাও মনে করি, ধীরে এগোনোটাই এ ক্ষেত্রে ভালো হতে পারে। পুরনো প্যাকেজ পদ্ধতি বহাল রেখে ভ্যাট ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এটা সত্য, বাস্তব প্রয়োজনেই এবার বাজেটের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা। দেশের ভৌত অবকাঠামো উন্নত না হলে বিনিয়োগ বাড়বে না, মোট উত্পাদন বাড়বে না এবং মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে না। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অনেক কিছুই করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবা এখনো গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো যায়নি। বেকারত্ব দূর করা ও দারিদ্র্য নিরসনেও জোর দিতে হবে। সব দিক বিবেচনায় নিলে ১৬ কোটি মানুষের দেশে বাজেটের এই পরিমাণ মোটেও বড় কিছু নয়।

আর স্বাভাবিকভাবেই বড় বাজেট বাস্তবায়নে বড় রাজস্ব আয়েরও প্রয়োজন হবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। তা না করে কোনো একটি দিকে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে তা ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী দেশে সক্ষম করদাতাদের ৫০ শতাংশেরও বেশি এখনো করজালের বাইরে রয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সক্ষমতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি কর্মীদের দুর্নীতির অভিযোগও ব্যাপক। তাই কর আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং দুর্নীতি ও অসততা দূর করতে হবে, অন্যথায় যেকোনো ‘বিগ জাম্প’ উল্টো ফল দিতে পারে। আমরা চাই, দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেই আগামী বাজেটের ভ্যাট ও শুল্কনীতি নির্ধারণ করা হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here