ভোট শেষ হলে বাঁচে মার্কিনিরা!

0
115

1474970148আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিরক্ত মার্কিনি ভোটাররা। এমন গালিগালাজ, অশ্লীল খেউড়, এমন অসৌজন্য আর অনৈতিক আচরণ এর আগে কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হয়নি। অবশ্য এত অ–জনপ্রিয় প্রার্থীর দেখাও অতীতে মেলেনি। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের মধ্যে তিক্ততা বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জনগণের ক্লান্তি। বিরক্তিকর এক রাজনৈতিক রিয়েলিটি শো দেখতে বাধ্য হয়ে রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছে মার্কিনিরা। ঠিক এমনই অনুভূতির কথা জানালেন পেনসিলভানিয়ার ৬৪ বছর বয়সি আইনজীবী ময়রা হান। বললেন, ‘এবার শেষ হলে বাঁচি। রীতিমতো অত্যাচার চলছে। আমরা আতঙ্কিত। রোজ সকালে দেখছি আরও নোংরা, আরও হিংস্র আক্রমণের চেহারা। মার্কিন সমাজে আরও বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা।’

ময়রা হান গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন মাউন্ট ভারনন। রাজধানী ওয়াশিংটন থেকে মাত্র এক ঘণ্টার রাস্তা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের বাড়ি এখানেই। হান বললেন, ‘ওয়াশিংটন সবচেয়ে ভালো যে প্রথাটি শুরু করেছিলেন, তা হল শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর। সেই ঐতিহ্যই আমরা বয়ে চলেছি। গৃহযুদ্ধের সময়টা বাদ দিলে এ প্রথা নিয়ে কখনো কোনো সঙ্কট তৈরি হয়নি। কিন্তু এবার আমাদের এক প্রার্থী বলছেন, তিনি ওই রীতি মানবেন না। বিষয়টা দুঃখজনক।’

এই শহরেই জর্জ ওয়াশিংটনের সমাধি। দেখতে এসেছিলেন মেরিল্যান্ডের স্কুল শিক্ষিকা ন্যান্সি মার্ফি। তার কাছে এই প্রচার ‘পুরোটাই বিড়ম্বনা’‌। বললেন, ‘আমরা পড়ানোর সময় নির্বাচনের রীতিনীতি শেখাই, কারণ আমরা বাচ্চাদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে চাই। তবে ইদানীং আর নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলছি না। কারণ নেতিবাচক প্রচার দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত। আমেরিকার জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে প্রার্থীদের কার কী অবস্থান আমরা জানি না। সব সময়ই শুনছি ওরা একজন অন্যজনের নিন্দে করছেন!‌’‌

ওয়াশিংটনের সমাধি দেখতে আসা আরেকজন, ডেভিড লং আগাম ভোট দিয়ে ঝামেলা চুকিয়ে ফেলেছেন। বললেন, ‘এ ধরনের নির্বাচনী প্রচার আগে কখনও দেখিনি। দুই প্রার্থীরই মর্যাদাবোধে ঘটতি রয়েছে। প্রচার নয়, পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চলছে!‌ দুই প্রার্থীই মামুলি বিষয় নিয়ে ঝগড়া করছেন। আরেক দর্শনার্থী ইভেন ডোম সাফ জানিয়ে দিলেন, হিলারি বা ট্রাম্প, কাউকেই ভোট দেবেন না। কারণ বোঝাই যাচ্ছে, এক দল জিতলে অন্য দল সেই ফল মেনে নেবে না। সুজান মারেক (৬৩) এসেছেন স্কুলজীবনের তিন বন্ধুকে নিয়ে টেক্সাস থেকে। তিনিও আগাম ভোট দিয়ে প্রচার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বললেন, ‘নোংরা পরিস্থিতি!‌ কোনও পক্ষই ভাষা ব্যবহারে সংযত নয়। আর গণমাধ্যমও ট্রাম্পের সঙ্গে সুবিচার করছে না।’ সুজানের বন্ধুরা জানালেন, পত্রিকা পড়া বা টিভিতে নির্বাচনের খবর দেখা বাদ দিয়েছেন তারা। নির্বাচনে কী হচ্ছে তা জানারও আর আগ্রহ নেই। ওয়াশিংটনের সমাধিস্থলের বাইরের বাড়িগুলোর বাগানে প্রতি নির্বাচনেই প্রার্থীদের সমর্থনে পোস্টার লাগানো থাকত। এবার ছবিটা আলাদা। পর পর কয়েকটি বাড়িতে দেখা গেল লেখা আছে— ‘সব অসুস্থ। আমাদেরও পাগল বানিয়ে ছাড়ল!‌’ অথবা, ‘২০১৬-র ধূমকেতু, তোমার সময় পার হয়ে গেছে’।

কিংবা ‘না এবং না। কেউই না।’ একটি অনলাইন দোকানে টি-শার্টের গায়ে লেখা, ‘বিষয়টা আর কৌতুকের পর্যায়ে নেই। প্রকৃত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কোথায়?’ তবে সবাই যে হতাশ, তা নয়। মিসৌরি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির লরি মিসেমার (৫৪) বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পড়ে আছে। সব ধরনের অনিশ্চয়তাই আছে। তবে যিনিই প্রেসিডেন্ট হোন না কেন, আমরা তাঁকে সমর্থন করব।’ এমনই আরেকজন গিলবার্ট লুইজ (২৩)। নেভাদায় ভোট দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এই নোংরা নির্বাচন থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে। এটা মার্কিনিদের জন্য সতর্ক ঘণ্টা। এবারের প্রার্থীদের ব্যাপারে ভোটাররা সন্তুষ্ট নয়। এর পর লোকে প্রার্থীদের সম্পর্কে আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে। প্রার্থীদের পেছনে আরো সময়-শক্তি খরচ করবে।‌-নয়া দিগন্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here