ভাস্কর্য অপসারণ সাংস্কৃতিক পরাজয়: গাফফার চৌধুরী

0
84

abdul-gaffar-chowdhury_295803ঢাকা: প্রখ্যাত সাংবাদিক-সাহিত্যিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য অপসারণ বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক পরাজয়। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে শুরু করে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমরা বিজয়ী হয়েছি। আজ এতদূর এসে আমরা পরাজয় মেনে নিতে পারি না।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম মিলনায়তনে তার সম্মানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনারকে একসময় দুর্গামূর্তি বলা হয়েছিল। জামায়াত বলেছিল এখানে মসজিদ বানানো হবে। সাতবার ভাঙ্গা হয় শহীদ মিনার। কিন্তু শেষপর্যন্ত শহীদ মিনার বাঙালির আশা-আকাঙ্খার প্রতীক হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দুঃখ পাই যখন শুনি কিছু বুদ্ধিজীবী ভাস্কর্য সরানোর অজুহাত হিসেবে বলেছেন, এটাতে নান্দনিক ত্রুটি আছে।

গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, আজ অত্যন্ত শঙ্কার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, পাঠ্যবইয়ে রবীন্দ্রনাথ থাকছেন না, বেগম রোকেয়া ও জীবনানন্দ বাদ হয়ে যাচ্ছেন। হেফাজতিরা একেবারে মূল জায়গায় হাত দিয়েছে। তাহলে কি ঈশ্বরচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু, নজরুল ও জীবনানন্দের বাংলাদেশ থাকবে না? তেতুল পীর সাহেবের বাংলাদেশ হয়ে যাবে? আওয়ামী লীগ কি আবারও আওয়ামী মুসলিম লীগের দিকে যাবে? আপস করে তো এগুনো যাবে না।

তিনি বলেন, ‘হিন্দুরা দেশত্যাগ করছে। প্রগতিশীল ও আলোকিত মুসলমানরাও তো থাকতে পারবে না। শুনেছি পুলিশ পাহারায় পূজা করতে হয়। এ অবস্থা তো আমরা চাইনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমি বলেছি, এটা কবরের শান্তি। উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন, আইনের শাসন।’

অমর একুশের গানের রচয়িতা গাফফার চৌধুরী বলেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ প্রতিষ্ঠার সময় কেউ কেউ বলেছিলেন, এটা সাম্প্রদায়িক সংগঠন। কারণ এই সংগঠনে মুসলমান নেই। আমি পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, সমঅধিকারের জন্য এই সংগঠন কাজ করে। এই সংগঠন সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। ওই সময় ঐক্য পরিষদের জন্ম হয়েছে যথার্থভাবেই। এই সংগঠনের প্রয়োজন আজ আরও বেশি।

তিনি বলেন, মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল, যখন শুনলাম নিরীহ স্কুলশিক্ষক শ্যামল ভক্তকে নেহাৎ  প্রতিহিংসার বশে জেলে পোরা হয়েছে। এতে ভয়ভীতি আরও বাড়বে। সংখ্যালঘুদের মধ্যে আরও আতঙ্ক ছড়াবে। এই পরিস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের শক্তির পক্ষে যায় না। বোধোদয় হতে হবে। নইলে দেশ বাঁচবে না।

ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি হিউবার্ট গোমেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য, অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ ভট্টাচার্য, সাংবাদিক বাসুদেব ধর প্রমুখ।