ভারত সফরকে যুগান্তকারী বললো যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ : নিউইয়র্কে বিজয়-র‌্যালি

0
116

04092017_03_USAL-1024x458নিউইয়র্ক থেকে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলতি ভারত সফরকে যুগান্তকারী এবং উভয়পক্ষের জন্যে লাভজনক হিসেবে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়াম লীগ। বাংলাদেশের সামগ্রিক কল্যাণের লক্ষ্যে নিকট প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পাদিত চুক্তিকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানোর পর আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্কে। জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ৮ এপ্রিল শনিবার রাতে এই বিজয় র‌্যালির পর প্রবাসীদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান র‌্যালিতে প্রদত্ত বক্তব্যে বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায়’।

‘৪ দিনের ভারত সফরের প্রথম দুদিন তথা শনিবার পর্যন্ত ব্যবসা সংক্রান্ত চুক্তিসহ বেশ কটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই, বিনিময়, গৃহীত ও হস্তান্তর হয়েছে। এতে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নেওয়ার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ‘ঘরে বন্ধুত্ব এবং আঞ্চলিক ও বিশ্ব ফোরামে অংশীদার’ হিসেবে থাকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।’ ড. সিদ্দিক বলেন, ‘অভ্যন্তরীন, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির সাধুবাদ জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সহযোগী হয়ে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ অভিযানের মধ্য দিয়ে যে সহযোগিতার সূচনা হয়েছিল, তা বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছেন দুই নেতা।

‘নিকট প্রতিবেশী দেশের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অটুট থাকার অর্থ হচ্ছে সমগ্র জনগোষ্ঠির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়া। এই গুরুত্ব উপলব্ধিতে ব্যর্থ বিএনপির কেউ কেউ তাদের দলীয় স্বার্থ হাসিলের অভিপ্রায়ে অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন’-অভিযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এই নেতা। বিজয়-র‌্যালির একমাত্র বক্তা ড. সিদ্দিক বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এখন যথেষ্ট জ্ঞানী এবং রাজনীতি সচেতন। তারা জানে যে, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বার্থ বিকিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেননি। ২৫ বছরের মৈত্রী চুক্তিকে এক সময় বিএনপি বলেছিল যে, সেটা গোলামীর চুক্তি। কিন্তু তারা ক্ষমতায় গিয়ে সেই চুক্তি বাতিল করেনি। সুতরাং চুক্তি হচ্ছে দ্বিপক্ষীয়, সম্মানজনকভাবে। আমরা স্বাধীন, ভারত স্বাধীন। আমাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেইবঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছেন এবং করছেন।’

ড. সিদ্দিক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘বঙ্গবন্ধু গঙ্গার পানি এনেছিলেন। কিন্তু বিএনপি আমলে সেটা বাতিল হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আদায় হয়েছে। আজ হোক, কাল হোক তিস্তার পানি আদায় করার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা সফল হবেন।’ ড. সিদ্দিক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই আমরা গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা, পার্বত্য শান্তিচুক্তি, সীমান্তচুক্তি বাস্তবায়ন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হয়েছে। অন্য কেউ এসব সমস্যা সমাধান করতে পারেনি।’

তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন ভারতপ্রীতি, আর যখন ক্ষমতার বাইরে তখন ভারতভীতি। ঠিক এবারও তেমনই আওয়াজ উঠেছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বার্থে ভারতের সাথে সম্পাদিত সমঝোতা-স্মারকের অপব্যাখ্যা ঘটিয়ে কিংবা মনগড়া বিবৃতির অবতারণা করে বিএনপির নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের মতামত/বক্তব্য পেশ করছেন।’ শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে এই প্রবাসেও বিএনপির লোকজনের অপপ্রচারণা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘যারা বিরোধী দল, তারা শুধু বিরোধিতা করেই গেছে। যেমন কুমিল্লার নির্বাচনের সময় সারা দিন বলেছে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না। অথচ তারা বিজয়ী হয়েছে। অর্থাৎ তারা জিতলেই নিরপেক্ষ, আর হারলে কারচুপির জিগির তুলেন। এ দলটি সমালোচনা ছাড়া আর কিছু করে না।’ বিএনপির অপপ্রচার সম্পর্কে প্রবাসীদের সজাগ থাকার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।

তাৎক্ষণিক এ বিজয় র‌্যালিতে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, সহ-সভাপতি সৈয়দ বসারত আলী এবং শামসুদ্দিন আজাদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান এবং এম এ হামিদ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শিবলী সাদিক, প্রচার সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী মমতাজ শাহানা এবং সবিতা দাস, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী এবং সদস্য-সচিব বাহার খন্দকার সবুজ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা দরুদ মিয়া রনেল প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here