ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আজ আসছেন

0
50

ঢাকা: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ২ দিনের সরকারি সফরে আজ ঢাকায় আসছেন। বাংলাদেশ-ভারত ‘জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন’ (জেসিসি) বৈঠকে যোগদানের লক্ষ্যে তার এ সফর। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে সই হওয়া বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হতে পারে। এছাড়া সফরের সময় রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ও গুরুত্ব লাভ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বিশেষ বিমানে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তাকে স্বাগত জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আজ বিকালে সোনারগাঁও হোটেলে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে জেসিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তারপর সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানে সুষমা স্বরাজ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যদের ব্যবহার করা আগ্নেয়াস্ত্র প্রতীকী হিসেবে শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করবেন। মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল। ওই সময়ে প্রায় ১৭০০ ভারতীয় সৈন্য আত্মাহুতি দেন। তাদের ব্যবহার করা সমরাস্ত্রের একটি প্রদর্শনী সুষমা স্বরাজের সফরকালে সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ভারতীয় হাইকমিশনের নিজস্ব কর্মসূচিতে যোগ দেবেন সুষমা স্বরাজ। সকাল সাড়ে ৯টায় ভারতীয় হাইকমিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর উপস্থিতিতে নতুন চ্যান্সারি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করবেন সুষমা স্বরাজ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে ১৫টি উন্নয়ন কর্মসূচি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। সেখানে তিনি অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়াও, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের আলাদা বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী শনিবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সুষমা স্বরাজের একটি বৈঠক হবে। তবে বৈঠকটি কখন, কোথায় হবে তা এখনও চূড়ান্ত করে বলা যাবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর আমন্ত্রণে সুষমা স্বরাজের এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি অনেক আগেই বাংলাদেশ সফরে আসতে চেয়েছিলেন। তবে উভয় দিকে ব্যস্ততার কারণে তার সফর অনেকটা বিলম্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এটা চতুর্থ জেসিসি বৈঠক। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে তৃতীয় জেসিসি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। আজ বিকালে চতুর্থ জেসিসি বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। অপরদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিতে অধিক গুরুত্বারোপ করা হবে।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ভারত প্রথমে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেয়। রাখাইন রাজ্যে রক্তপাত চলাকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফরে গিয়ে অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত মিয়ানমারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। তারপর ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা দিল্লি গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বৈঠক করে ভারতের কাছে বাংলাদেশের সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝাতে সক্ষম হন। তারপর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক ভারত সফর করে এ ব্যাপারে ভারতের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেন।

দিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার পর সুষমা স্বরাজ টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান যে, ভারত রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান চায়। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফিরিয়ে নেয়ার জন্যে আহ্বান করে। এক্ষেত্রে, বাংলাদেশের অবস্থানের ব্যাপারে ভারত বিশ্বাস করে। মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এবং বিভিন্ন গোপন বৈঠকে বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে ভারত। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের পরিবর্তিত অবস্থানে বাংলাদেশ সন্তুষ্ট। তবে এবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ভারতের এ অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত করার অনুরোধ জানানো হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ভারত সফরকালে যেসব চুক্তি ও এমওইউ সই করেছিলেন সেগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জেসিসি বৈঠকে আলোচনা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা চুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা, সীমান্ত পরিস্থিতি প্রভৃতি ইস্যুতে অগ্রাধিকার দেয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর মাত্র ৫ মাস আগে হওয়ায় ওই সব চুক্তি বাস্তবায়নে এ সময়ে খুব বেশি অগ্রগতি সম্ভব নয়।’ সুষমা স্বরাজের সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানসহ ২-৩টি এমওইউ সই হতে পারে। এসব চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা সাম্প্রতিকালে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় ওই নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব হতাশা ব্যক্ত করেছিল। ওই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। তবে ভারত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে উল্লেখ করে ওই নির্বাচনের প্রতি সমর্থন দিয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here