বড় নেতারা মানবাধিকার মানেন না, লাখ লাখ মানুষের অধিকার হরণ করছেন

0
33

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: মানবাধিকার নিয়ে বড় বড় বুলি আওড়ানো বিশ্বের বাঘা বাঘা নেতারাই জনঅধিকারের তোয়াক্কা করেন না। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করেছেন তারা। কিন্তু মানবাধিকার মাড়িয়ে তাদের পদক্ষেপকে জনরোষের মাধ্যমে পিষিয়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটি বলছে, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মানবাধিকারের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

৪০৯ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনটি বিশ্বের ১৫৯টি দেশের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেয়া হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসর, ফিলিপাইন ও ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্প, পুতিন ও শি জিনপিংকে এক তালিকায় রেখেছে অ্যামনেস্টি। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন থেকে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির প্রধান সলিল শেঠি বলেন, ‘বিশ্ব রাজনীতিতে এখন প্রচুর বিদ্বেষ। খুব অল্পসংখ্যক সরকারই মানবাধিকারের পক্ষে লড়াই করে।’ তিনি আরও বলেন, আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি, রদ্রিগো দুতের্তে, নিকোলাস মাদুরো, ভ্লাদিমির পুতিন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং লাখ লাখ মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর জারি করা ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞাকেও ‘স্পষ্টত একটি বিদ্বেষমূলক পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছে অ্যামনেস্টি। ওই নিষেধাজ্ঞায় মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধ করা হয়েছিল। শেঠি বলেন, ‘বিদ্বেষের চরম ?উদাহরণ ছিল সেই পদক্ষেপ।

রাশিয়ায় বিরোধী নেতাদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছেন পুতিন। ফিলিপাইনে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন দুতের্তে। এক বছরে চীনে মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ধরপাকড় বেড়েছে। এমনকি নোবেল পুরস্কারজয়ী লিউ জিয়াওবাও জেলখানায় মারা গেছেন।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা ইস্যুও উঠে আসে। রাষ্ট্রের সমর্থনে সমাজে যে ঘৃণার নীতি ছড়িয়ে পড়ে, তারই পরিণতি হচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমান নিধন। সেইসঙ্গে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের অভাবও এর জন্য দায়ী বলে মনে করছে সংগঠনটি। সলিল শেটি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, মিয়ানমারে সংখ্যালঘুদের প্রতি ঘৃণা ও আতঙ্কের বিষয়টি স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়ার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।’

রাখাইনে বসবাস করা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিচালিত ভয়াবহ অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত সপ্তাহে এ ব্যাপারে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘের হিসাবে, গত বছরের আগস্টের শেষে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অ্যামনেস্টি বলছে, মিয়ানমার, ইরাক, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের ঘটনা ঘটছে, তাতে যথাযথভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।