ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধি করার কিছু কার্যকরী উপায়

0
358

imgএকজন মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ হচ্ছে ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি। যখন  রক্তচাপ এরচেয়ে কমে যায় তখনই লো ব্লাড প্রেসার হয়েছে বলা হয়। লো ব্লাড প্রেসার খুবই সাধারণ একটি সমস্যা যা হাইপোটেনশন নামেও পরিচিত। বিভিন্ন কারণে লো ব্লাড প্রেসারের সমস্যা দেখা যায়। কারণগুলো হচ্ছে- বয়স, ঔষধ, অপুষ্টি, ডিহাইড্রেশন, ইনফেকশন, ব্লাড লস, প্রেগনেন্সি এবং বিভিন্ন অসুখ যেমন- ডায়াবেটিস, হৃদপিণ্ডের সমস্যা, হাইপোগ্লাইসেমিয়া, পারকিনসন্স, অ্যাডিসন্স ইত্যাদি। লো ব্লাড প্রেসারের সাধারণ লক্ষণগুলো হচ্ছে- মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব, দ্রুত ও অগভীর শ্বাস, বিষণ্ণতা, মনোযোগের অভাব, তৃষ্ণা পাওয়া ও ঘোলা দৃষ্টি। নিম্ন রক্তচাপ বৃদ্ধি করার কিছু উপায় আছে তা হল :

১। হাইড্রেটেড থাকুন

যদি আপনার মাঝে মাঝে নিম্ন রক্তচাপের সমস্যাটি দেখা দেয় তাহলে তার জন্য ডিহাইড্রেশনকে দায়ী করা যায়। ব্যস্ততার জন্য যদি আপনার পর্যাপ্ত পানি পান করা না হয় তাহলে আপনার রক্তচাপ কমে যেতে পারে। গরমের সময় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক জলীয় অংশ বাহির হয়ে যায় ফলে ডিহাইড্রেশনের সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রচুর পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন ও নিম্ন রক্তচাপ প্রতিহত করুন।

২। ঔষধ

কিছু ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মানসিক সমস্যা যেমন- ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটির ঔষধ গ্রহণ করলে ব্লাড প্রেসার লো হয়। কিছু ব্যথানাশক ঔষধ ও ব্লাড প্রেসার কমিয়ে দিতে পারে। ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানুন এবং কোন ঔষধ গ্রহণ বন্ধ করার পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৩। শারীরিক সক্রিয়তা

আপনার ডাক্তার আপনাকে পর্যবেক্ষণ করে কিছু শারীরিক কর্মকাণ্ডের বা ব্যায়ামের পরামর্শ দেবেন যা ঘরেই করা সম্ভব। যদি আপনার লো ব্লাড প্রেসারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে বা বসা থেকে উঠতে সমস্যা হয় তাহলে তিনি হয়তো আপনাকে সোয়া বা বসা থেকে খুব আস্তে আস্তে উঠার পরামর্শ দেবেন। আবার আপনার লো ব্লাড প্রেসারের কারণ বুঝে আপনার ডাক্তার হয়তো আপনাকে অনেক বেশি শারীরিক সক্রিয়তার কথা বলবেন যার মাধ্যমে আপনার ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধি পাবে এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।

৪। ঠান্ডা থাকুন

তাপের কারণে ব্লাড প্রেসার কমে যেতে পারে। তাই নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থাকলে গোসলের সময় গরম পানি ব্যবহার বাদ দিন। ঘরে এয়ার কন্ডিশনের ব্যবস্থা থাকলে সেখানে থাকুন। আর না থাকলে দিনের বেলায় ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখুন এবং রাতের বেলায় খোলা রাখুন যতটা সম্ভব। তাহলে ঘর ঠান্ডা থাকবে। এছাড়াও ঘাড়ে বরফ লাগিয়ে রাখতে পারেন কিছুক্ষণ।

৫। কাঁচা ফল ও সবজি খান

কাঁচা ফলমূল ও সবজি খেলে শরীর হাইড্রেটেড থাকার পাশাপাশি রক্তচাপ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতির জন্য নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা হতে পারে। ফলিক এসিড ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধিতে চমৎকার কাজ করে। গাঢ় সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর ফলিক এসিড থাকে। তাই নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা সমাধানের জন্য কাঁচা ফলমূল ও সবজি খান।

৬। লবণ খান

হাই ব্লাড প্রেসারের রোগীদের লবণ খেতে নিষেধ করা হয় যে কারণে ঠিক সেই কারণেই লো ব্লাড প্রেসারের রোগীদের লবণ খেতে বলা হয়। সোডিয়াম ক্লোরাইড রক্তের আয়তন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। তাই লবণযুক্ত খাবার খেয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারেন।

নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের সকালে ঘুম থেকে তাড়াহুড়া করে ওঠা ঠিক নয়। ঘুম ভাঙ্গার পর আস্তে আস্তে উঠে বসুন এবং গভীরভাবে কয়েকবার দম নিন। তারপর বিছানা থেকে নামুন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর দাঁড়াতে গেলে মাথা  ঘুরাতে পারে। তাই একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না। ঘুমানোর সময় আপনার মাথা ১০-২০ ডিগ্রী উপরে রাখলে এবং মোজা পরে ঘুমালে রক্তচাপ খুব বেশি কমে যাওয়া রোধ করা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here