ব্রেক্সিটে হারলেই আগাম নির্বাচন ব্রিটেনে

0
13

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ব্রেক্সিট ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পার্লামেন্ট ভোটাভুটিতে হারলে আগাম নির্বাচনের ছক কষছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। ব্রেক্সিট ভোটে তেরেসার পরাজয় হলে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে দলটি।

এদিকে, নিজের নেতৃত্ব রক্ষা ও ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে নভেম্বরে আগাম নির্বাচন দেয়ার কথা ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা। সানডে টাইমস পত্রিকার বরাতে রোববার এ খবর দিয়েছে আলজাজিরা।

পত্রিকাটি জানায়, বিরোধী দলের নেতা জেরেমি করবিন ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তেরেসার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনাস্থা ভোটে লেবার পার্টির জয়ের জন্য ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির কয়েকজন নেতা সমর্থনও প্রয়োজন পড়বে। ক্ষমতাসীন টরি দলের মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে বিভক্তি তৈরি হওয়ায় প্রয়োজনীয় সমর্থন আসবে বলেও বিশ্বাস বিরোধীদের।

ব্রেক্সিট গণভোটে পরাজিত হয়ে ২০১৬ সালের জুনে পদত্যাগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এরপর ক্ষমতায় আসেন তেরেসা। নিজের অবস্থানকে আরও পাকাপোক্ত করতে এপ্রিল মাসে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি। জুনের এ ভোটে জয়ী হন তেরেসা।

এরপর ব্রেক্সিট নিয়ে পুরোদমে আলোচনা শুরু করেন তিনি। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ ইইউ থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের দিনক্ষণ ঠিক হয়। এ দিনকে সামনে রেখেই চলছে আলোচনা।

গত জুলাইয়ে ব্রেক্সিটের জন্য ‘চেকার্স প্ল্যানের’ খসড়া লিপিবদ্ধ করেছিলেন তেরেসা। ওই প্ল্যানের বিষয়ে ইইউ নেতারা অস্ট্রিয়ার সালজবার্গে গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেন। সেখানে তেরেসার অনুপস্থিতিতেই ইইউ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, তার পরিকল্পনা সফল হবে না।

মূল সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে ইইউ সদস্য রাষ্ট্র আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্যের শর্ত নির্ধারণ নিয়ে। আইরিশ সীমান্তের বিষয়ে ইইউ’র পরামর্শ হচ্ছে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় বাজারের অংশ হিসেবে থাকবে।

আর বাকি যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে আলাদা হয়ে যাবে। কিন্তু এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেরেসা বলেন, এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে যুক্তরাজ্যকে বিভক্ত করে ফেলবে। ফলে তেরেসার ‘চেকার্স প্ল্যান’ বাতিল করে দেয় ইইউ।

তেরেসাকে তার মন্ত্রিসভার সহকর্মীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকর করা হলে (হার্ড ব্রেক্সিট) যুক্তরাজ্য ভেঙে যেতে পারে। মূলত সালজবার্গ সম্মেলনের পরই ব্রেক্সিট নিয়ে নিজেদের এমন ভাবনার কথা জানিয়েছেন টরি নেতারা।

কনজারভেটিভ নেতাদের অনেকে মনে করছেন, তেরেসার সমর্থন এত কম যে এ বছরের মধ্যে আগাম নির্বাচন দেয়া লাগতে পারে। সানডে টাইমসকে সরকারি দুটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মেও আগাম নির্বাচনের কথাই ভাবছেন। নিজের নেতৃত্ব বহাল রাখা ও পার্লামেন্ট সদস্যদের আরও আস্থা অর্জনে বিকল্প আর কোনো পথ নেই।

তেরেসার রাজনৈতিক এ চাপের মধ্যে জেরেমি করবিনও আগাম ভোটের দাবি তুলছেন। গত সপ্তাহে লেবার পার্টির দলীয় সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যদি এ সরকার যথাযথ সমাধান না দিতে পারে তাহলে তেরেসা মেকে বলব, আগাম নির্বাচন দিন। সমস্যা নিরসনের এটাই উত্তম পন্থা।’

তবে আগাম নির্বাচনের বিরুদ্ধেও অবস্থান রয়েছে অনেকের। কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুটো বেব বলেন, ‘কনজারভেটিভরা সরকারের পতনের জন্য ভোট দেবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’ টরি সংসদ সদস্য হেইডি অ্যালেনও আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, শুধু যে কনজারভেটিভরাই আগাম নির্বাচনের বিপক্ষে তা নয়, লেবার পার্টির অনেকেই এখন নির্বাচন চান না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here