ব্রিটিশদের মুখে জবাব ছুঁড়ে বিমানবাহিনীর শীর্ষে এই বাঙালি

0
248

5আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৩২। ব্রিটিশ শাসন তখন প্রায় শেষের পথে। সেইসময় ভারতের উচ্চপদস্থ সেনা অফিসার হিসেবে ভারতীয়দের ক্ষমতাকে আর অস্বীকার করতে পারছিল না তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। যদিও ব্রিটিশরা মনে করত ভারতীয় ‘নেটিভ’রা কি আর যুদ্ধবিমান চালাতে পারবে? সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে গঠিত হল ভারতীয় এয়ারফোর্স। ১৯৩২-এর ৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় র‍য়্যাল ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স। আর নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে তার শীর্ষস্থানে জায়গা করে নেন বাঙালি পরিবারের সন্তান সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সেইসময় বায়ুসেনা ছিল একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে ভারতীয়দের কোনও জায়গা ছিল না। কেবলমাত্র ব্রিটিশরাই এতে যোগ দিতে পারতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছু আগে থেকে এই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।

কর্নওয়েলের RAF কলেজে পাইলট ট্রেনিং-এর জন্য নির্বাচিত হওয়া ছ’জনের মধ্যে সুব্রত মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন। ২৮ বছর ধরে এয়ারফোর্সকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানে পৌঁছে দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনাকে। ১৯৬০ সালে কর্মজীবন শেষ হয় তাঁর। কিন্তু আজও বায়ুসেনার ইতিহাসে তাঁর নাম উজ্জ্বল।

যখন ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে এয়ারফোর্সে ভারতীয়দের নেওয়া হবে। সেইসময় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বাবা তাঁকে বিষয়টা জানান। কিন্তু এমন সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না তাঁর মা। যদিও গাঢ় আত্মবিশ্বাস ছিল সুব্রত’র। মা’কে লেখা চিঠিতে বলেছিলেন, ‘নিশ্চিন্তে থেকো। কখনও আমার বিমান ভেঙে পড়বে না।’ পরে যখন তিনি একটি ট্রেন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন। তখন মা’কে টেলিগ্রাম করে লিখেছিলেন, ‘কে বলে শুধু বিমান ওড়ানোটাই বিপজ্জনক?’

কর্নওয়েলে এন্ট্রান্সে সফল হয়ে অত্যন্ত খুশি হন তিনি। কারণ বিমান চালনাকেই দীর্ঘদিন ধরে পেশা হিসেবে নিতে চেয়েছিলেন সুব্রত। দু’বছরের ট্রেনিং হয় তাঁর। ছ’জনের মধ্যে তিনি ছাড়াও ছিলেন এইচসি সরকার, এবি আওয়ান, ভুপেন্দর সিং, অমরজিৎ সিং ও জেএন ট্যান্ডন। এতদিন পর্যন্ত শুধু খাতায়-কলমেই ছিল ভারতের এয়ারফোর্স। সেটা বাস্তবায়িত হওয়ার স্বপ্নও দেখেনি কেউ। এই ছ’জনই সেই বাস্তবকে রূপ দেওয়ার পথে এগিয়েছিলেন। যে পথের সাম্প্রতিক উত্তরসূরী, বর্তমান বাঙালি বায়ুসেনা প্রধান অরূপ রাহা।কলকাতা২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here