বৈঠকে হাস্যোজ্জ্বল জিনপিং-ওবামা

0
90

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার চেষ্টায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার বেইজিংয়ের দিয়াওউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে তাদের সাক্ষাৎ হয়।

সম্প্রতি চীন সফর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বেইজিংয়ে ট্রাম্পের প্রথম সফরে জিনপিং তাকে আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই মঙ্গলবার চীন সফরে আসেন ওবামা। তিনি এমন সময় বেইজিং সফর করলেন যখন ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে চীনের অর্থনৈতিক নীতি ও অনুশীলনকে ব্যাপক সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে।

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবসর গ্রহণের পর এটাই তাদের প্রথম সাক্ষাৎ। এই দুই নেতার মধ্যে সর্বশেষ ফ্রান্সে সাক্ষাৎ হয়। এ সময় তারা উভয়েই নিজ নিজ দেশের পক্ষে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুমোদন করেছিলেন।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, বৈঠককালে এই দুই নেতা হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। চীনা গণমাধ্যম ওবামা ও জিনপিংকে কমিউনিস্ট ‘ভেটেরান ক্যাডার’ বলে অভিহিত করেছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত চায়না কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেসে জিনপিং ওবামার ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন। এই শব্দগুচ্ছ সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত কমিউনিস্ট কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে জানায়, জিনপিং ওবামার ব্যাপারে ‘ইতিবাচক’ প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ওবামা তার ৮ বছরের শাসনামলে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়নে চেষ্টা করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জিনপিং বলেন, বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সুরক্ষার ক্ষেত্রে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।’

অন্যদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহিত করেছেন ওবামা। একইসঙ্গে দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্কে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

ওবামার শাসনামলের শেষ দিকে তাদের সম্পর্কে কিছু তিক্ততা সৃষ্টি হয়। কারণ ওবামা সেই সময় এশিয়ার ব্যাপারে নতুন কৌশল গ্রহণ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল এই অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি করা। তিনি বরাবর দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দখলদারিত্ব ও দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। তা সত্ত্বেও এই দুই নেতার সম্পর্ক ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন চীনের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা শুরু করেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়ে ওয়াশিংটন বলেছে, চীনকে বাজার অর্থনীতি বলে মানবে না তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে চীনা পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র চীনের বাণিজ্য নীতির সমালোচনা অব্যাহত রাখলেও ট্রাম্প চীনা নেতা জিনপিংয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত আন্তরিক সম্পর্ক রাখবেন বলে ঘোষণা করেছেন। গত মাসের সফরকালে ট্রাম্প বলেন, জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ তৈরি হয়েছে। এই সম্পর্ককে তিনি ‘এক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আরেক প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

চীন সফর শেষে ওবামা ভারত সফরে রয়েছেন। হিন্দুস্থান টাইমস লিডারশিপ সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা পরবর্তীকালে মন্দা মোকাবেলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক সহায়তা করেছেন। মনমোহনকে একজন ‘মহান’ বন্ধু অভিহিত করে ওবামা বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলা করার সময় তিনি আমাদের প্রধান অংশীদার ছিলেন।’