বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ

0
212

ঢাকা এবং সোফিয়ার মধ্যে অর্থপূর্ণ ও কার্যকর সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রোজেন প্লেভনিলিয়েভ বলেছেন, দুই দেশ শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিসহ অন্যান্য খাতে একযোগে কাজ করে সম্ভাবনার দ্বারকে অবারিত করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘দুই দেশ তথ্য প্রযুক্তি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধান করতে পারে।’ বুলগেরিয়া সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদেশের প্রেসিডেন্ট রোজেন প্লেভনিলিয়েভ’র সঙ্গে আজ বিকেলে (স্থানীয় সময়) প্রেসিডেন্সি প্রাসাদে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্লেভনিলিয়েভ এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পৌঁছালে রোজেন প্লেভনিলিয়েভ প্রটোকল সীমানা পেরিয়ে তাঁকে ভবনের করিডোরে এসে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান। প্লেভনিলিয়েভ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের এক মহান নেতা হিসেবে হিসেবে অভিহিত করেন।

ইহসানুল করিম জানান, সৌজন্য সাক্ষাৎ শুরুর পূর্বে দুই নেতা কিছু সময় একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকালে সেদেশের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক দুজন উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশে বুলগেরিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বিগত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের দ্রুত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখতে পারে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ এবং বুলগেরিয়ার মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরে পারষ্পরিক অর্থবহ সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুলগেরিয়া ইউরোপের প্রেক্ষাপটে ভাল অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের প্রসঙ্গে বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা সিজনাল অভিবাসীদের ‘ব্লু কার্ড’ প্রদানের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য কাজের সুযোগ দিয়ে থাকেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন বুলগেরিয়ার সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বুলগেরিয়া বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের বিশেষ জায়গা জুড়ে রয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) স্মরণ করেন, বুলগেরিয়া বিশ্বের চতুর্থ এবং ইউরোপের দ্বিতীয় দেশ, যারা মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের সময় বুলগেরিয়াসহ পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সর্ম্পক উন্নয়নের প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই গতি হারিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও বুলগেরিয়ার মধ্যে কৃষি, তথ্য প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতা বুলগেরিয়ার সঙ্গে বিনিময় করতে চায়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এবং বুলগেরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আল্লামা সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।