বিপুল ঘাটতি নিয়ে ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রস্তাব

0
45

সর্বমোট ৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার, ২০১৭ সালের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি * সামরিক ব্যয় ৬৮,৬০০ কোটি ডলার, স্বাস্থ্য খাত-বৈদেশিক সাহায্যে কাটছাঁট * ঘাটতির পরিমাণ ৯৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রস্তাবের খসড়া প্রকাশ করেছেন। এটি ২০১৭ সালের বাজেটের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে ২০১৯ অর্থবছরের এ বাজেটটি এখন পাস হওয়ার অপেক্ষায়।

বাজেটে মার্কিন ইতিহাসে সামরিক খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় প্রতিরক্ষা খাতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৬৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বরাদ্দ পাসের জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পেন্টাগন।

একই সঙ্গে বাজেটে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বৈদেশিক সহায়তা, আভ্যন্তরীণ ও সামাজিক খাতের বরাদ্দে কাটছাঁট করেছেন ট্রাম্প। খবর সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

২০১৮ অর্থবছরে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৪.১৪ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু কংগ্রেসে এটি পাস হয়নি। সাময়িক সমঝোতার মধ্য দিয়েই অর্থবছরটি পার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়। ২০১৭ সালের বাজেটের চেয়ে ৮ হাজার কোটি ডলার বেশি বাড়িয়ে সামরিক খাতে ৬৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোমবার প্রতিরক্ষা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড এল নরকুইস্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সন্ত্রাসবাদ নয়, শক্তির প্রতিযোগিতাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজেট নথিতে বলা হয়েছে, এটা সুস্পষ্ট যে অন্যান্য দেশের অর্থনীতি, কূটনীতি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্তের ওপর কর্তৃত্ব জারি করতে চায় চীন ও রাশিয়া।

বারবার পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দিয়ে উত্তর কোরিয়াও বিশ্বে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেও এতে বলা হয়েছে।

প্রস্তাবে ঘাটতির পরিমাণ ৯৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। সামরিক ব্যয় এতটাই বাড়ানো হয়েছে যে, চিকিৎসা, বৈদেশিক সহায়তা, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো খাতগুলোর বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ার পরও এ বিপুল ঘাটতি থেকে গেছে।

অর্থনীতি ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় ঘাটতির এ বাজেট প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জন্য ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, অবকাঠামো উন্নয়নে বাজেটের কেন্দ্রে ২০ হাজার কোটি ডলারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় চাওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, এর ভেতরে রয়েছে মেক্সিকো সীমান্তে ৬৫ মাইল দীর্ঘ দেয়াল নির্মাণের জন্য ১০৬ কোটি ডলার।

পরিবেশ সংরক্ষণে ২০৮ কোটি ডলার প্রস্তাব করেছেন ট্রাম্প। এ বরাদ্দ আগের চেয়ে ৩৪ শতাংশ কম। এতে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রায় সব প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে।