বিটকয়েন খোঁজার হিড়িকে বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা

0
38

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: আইসল্যান্ডে উৎপাদিত বিদ্যুতের শতকরা ১০০ ভাগই আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। তবে আইসল্যান্ডে বড় বড় ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে বিটকয়েন খোঁজার যে হিড়িক পড়েছে, তাতে দেশটির বিদ্যুৎ সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশটির একটি জ্বালানি কোম্পানি এইচএস ওরকা জানিয়েছে, বিটকয়েন খোঁজার কাজে যেসব ডাটা সেন্টার চালাতে হয়, তাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

আইসল্যান্ডের জনসংখ্যা খুব কম, মাত্র তিন লাখ ৪০ হাজার। এ বছর আইসল্যান্ডে সব বাড়িতে যত বিদ্যুৎ খরচ হবে, তার চেয়ে হয়তো বেশি বিদ্যুৎ খরচ হবে এসব ডাটা সেন্টারে। খবর বিবিসির।

তিনি জানান, আরও অনেকে এখন এসব ডাটা সেন্টার স্থাপনের দিকে ঝুঁকছে। সব প্রকল্প যদি বাস্তবায়িত হয়, সেগুলো চালানোর মতো বিদ্যুৎ আইসল্যান্ডে থাকবে না।

কিন্তু সম্প্রতি এই দ্বীপে নতুন ডাটা সেন্টার গড়ার হিড়িক পড়েছে। যেসব কোম্পানি এই ডাটা সেন্টার স্থাপন করছে, তারা দেখাতে চায় এটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি।

বিটকয়েন মাইনিং বলতে বোঝায় বিশ্বজুড়ে যে বিটকয়েন নেটওয়ার্ক আছে তার সঙ্গে কম্পিউটারকে যুক্ত করা এবং এই ক্রিপ্টো কারেন্সির যে লেনদেন হচ্ছে, সেগুলো যাচাই করা।

যেসব কম্পিউটার এই যাচাইয়ের কাজটি করে, তারা সামান্য পরিমাণে ‘বিটকয়েন পুরস্কার’ পায় এর প্রতিদানে। কিন্তু কেউ যদি এই কাজটি বিশাল আকারে করতে পারে, সেটি বেশ লাভজনক।

কিন্তু আইসল্যান্ডে এখন এ ব্যবসার বিপুল প্রবৃদ্ধি ঘটছে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য বিদ্যুৎ খরচ।

জ্বালানি কোম্পানি এইচএস ওরকার মুখপাত্র জানান, আইসল্যান্ডে ডাটা সেন্টার স্থাপন করতে আগ্রহী এ রকম লোকজনের কাছ থেকে তারা প্রচুর কল পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ ডাটা সেন্টার স্থাপনের কথা চলছে, তার সব হয়তো বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হবে না। যদি সব ডাটা সেন্টার সত্যি সত্যি চালু হয়, আইসল্যান্ডে তাদের দেয়ার মতো বিদ্যুৎ আর অবশিষ্ট থাকবে না।

অনুমান করা হচ্ছে, এ বছর আইসল্যান্ডে বিটকয়েন মাইনিং অপারেশনের পেছনে প্রায় ৮৪০ গিগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হবে। এর বিপরীতে আইসল্যান্ডের সব বাড়ি মিলে বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে ৭০০ গিগাওয়াট ঘণ্টা।

LEAVE A REPLY