‘বিজয়ের’ পর প্রথম জুমায় আল-আকসায় মুসল্লিদের ঢল

0
52

al-aqsa-pic_53510_1501246356আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলি বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভ করে সফল হওয়ার পর হারাম আল শরিফ আল আকসা মসজিদে আজ শুক্রবার প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা। এতে ১০ সহস্রাধিক মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নেন। এ তথ্য জানিয়েছেন মসজিদের ওয়াকফ কাউন্সিলের মুখপাত্র ফিরাস আল-দিবস।

তিনি আরও জানান, নানা প্রতিবন্ধতা পেরিয়ে মসজিদের বাইরেও হাজার হাজার মুসল্লি পবিত্র জুমায় অংশ নেন।

দখলদার ইসরাইলি পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতভর গ্রেফতার অভিযানের পাশাপাশি ৫০ বছরের কম বয়সী ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল।

তা সত্ত্বেও আজ জুমার নামাজে আল-আকসার ভেতরে ও বাইরে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যম হারেজ জানায়, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ শুরু হয়। এ সময় বয়সের কারণে অনেক মুসল্লিকে মসজিদের বাইরের বিভিন্ন চেকপয়েন্টে আটকে দেয় ইসরাইলি পুলিশ। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই কম বয়সী মুসল্লিরা মসজিদের বাইরেই অবস্থান করতে থাকে। এর আগে ফজরের নামাজও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে এদিন দুপুরে অর্ধশত ফিলিস্তিনি পশ্চিম তীরের হাওয়ারা শহরে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

উল্লেখ্য, প্রবেশ পথে ইসরাইলি বাহিনী মেটার ডিটেক্টর স্থাপনসহ নিরাপত্তা কড়াকড়ি আরোপ করলে দুই সপ্তাহ ধরে আল-আকসা মসজিদের ভেতরে নামাজ পড়া বন্ধ রাখে ফিলিস্তিনি মুসলমানরা।

মুসলমানদের প্রথম কেবলা পবিত্র হারাম আল শরিফে ইহুদিবাদীদের দখলদারীর প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।

বিক্ষোভ দমন করতে তিনজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা, কয়েকশত জনকে জখম করে হানাদার বাহিনী। এছাড়া অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতারও করে তারা।

তবে দমনপীড়ন সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং অবরুদ্ধ গাজা ও পশ্চিমতীরে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। এর জের ধরে তিন দখলদার ইসরাইলিও নিহত হয়।

সার্বিক পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের নতুন করে জাতীয় জাগরণ তথা ইনতিফাদা আন্দোলনের জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

এছাড়া মুসলিম বিশ্বেও ইসরাইলি দখলদারির বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে শুরু করে।

এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে ইসরাইল আল-আকসা মসজিদ থেকে মেটাল ডিটেক্টর অপসারণ করতে বাধ্য হয়।

এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে জোহর নামাজের মধ্য দিয়ে আল-আকসার ভেতরে দুই সপ্তাহ পর নামাজ পরা শুরু করেন ফিলিস্তিনিরা।

এদিন থেকে মসজিদটিতে হাজার হাজার মুসল্লির ভিড় দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যম হারেজ। তারা জানায়, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজেও মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে।

তবে বৃহস্পতিবার রাতে এশার নামাজের পর ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের গ্রেফতারে মসজিদের ভেতরে হানা দেয় ইসরাইলি বাহিনী।

তারা দরজা ভেঙে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় মুসল্লিরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেল উভয় পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এতে শতাধিক মুসল্লি আহত হয়।

পরে সেখান থেকে কয়েকজন ফিলিস্তিনি তরুণকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় ইসরাইলি পুলিশ।