বিএনপি জনগণকে কী আশার বাণী শোনাবে: প্রধানমন্ত্রী

0
89

006_298989ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘রূপকল্প-২০৩০’ এর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, গ্রেনেড হামলা ও সংসদ সদস্য হত্যাসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কাজে যারা পারদর্শী, তারা আবার জনগণকে কী আশার বাণী শোনাবে? তাদের রূপকল্প মূলত আওয়ামী লীগের ‘রূপকল্প-২০২১’ এরই প্রতিচ্ছবি। রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজন উপযুক্ত কৌশল, যোগ্য নেতৃত্ব ও  সুসংগঠিত দল, সর্বোপরি দেশবাসীর আস্থা। এজন্য আগে বিএনপিকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে, অতীতের নেতিবাচক রাজনীতি ও অনিয়মতান্ত্রিক তৎপরতায় তারা আর ফিরে যাবে না।

বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। যেখানে সরকারি ও বেসরকারি সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি তাদের ‘রূপকল্প-২০৩০’-এ যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছে, তার অধিকাংশই আওয়ামী লীগ সরকার ইতোমধ্যে পূরণ করেছে। আগামী অর্থবছরে বাকি কাজগুলো শেষ করা হবে। রূপকল্প-২০২১ বাস্তব রূপান্তরের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আগামীদিনের বাংলাদেশকে বিশ্বে অগ্রগামী ও উন্নত জনপদে পরিণত করতে আমরা জাতিকে আমাদের এই মেয়াদের মধ্যেই ‘রূপকল্প-২০৪১’ উপহার দেব।

তিনি বলেন, রূপকল্পের নামে বিএনপি নেত্রী ক্ষমতায় গেলে তারা কী কী করবেন তার দীর্ঘ ফর্দ দিয়েছেন। কিন্তু কীভাবে ও কোন পদ্ধতিতে এটা বাস্তবায়ন করা হবে, কীভাবে অর্থায়ন করা হবে- তা স্পষ্ট নয়। এটি অনেকটা নির্বাচনী ইশতেহারের মতই হয়ে গেছে। এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হলে তাদের আগে ক্ষমতায় যেতে হবে। কেবল তাই নয়, সংসদীয় পদ্ধতি ও গণভোট পদ্ধতির পরিবর্তনসহ আরও যেসব মৌল পরিবর্তন তারা আনতে চাচ্ছেন, তার জন্যও সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে। বিগত সময়ে তাদের শাসনামলে বিএনপি অনিয়ম-দুর্নীতি ও জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতার যে দৃষ্টান্ত রেখেছে এবং ক্ষমতায় বাইরে থেকে জ্বালাও-পোড়াওসহ অনিয়মতান্ত্রিক তৎপরতা দিয়ে যে নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছে- তা কাটিয়ে উঠে এতটা জনআস্থা অর্জন তাদের জন্য যে কঠিন চ্যালেঞ্জ তা বলাই বাহুল্য।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ‘রূপকল্প-২০২১’ সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে। সে কারণে আমাদের দৃষ্টি কেবল একটি বছরে সীমাবদ্ধ নয়। আওয়ামী লীগ ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, সুখী ও উন্নত জনপদে পরিণত করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে ২০৪১-তে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথমসারির উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে উন্নিত করার রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেন, একটি মহল ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও মনগড়া বক্তব্য দিয়ে ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে’ বলে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তথ্য প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বেগবান করে এক সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ছয়টি দিক বিবেচনা করা হয়। এগুলো হচ্ছে, প্রকল্পের জন্য সুবিধাজক ও প্রয়োজনীয় জমির প্রাপ্যতা, নদীর নাব্যতা, কয়লা পরিবহনের সুবিধাদি, প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানির উৎস/যোগান, বিদ্যুৎ সঞ্চালন সুবিধা, ঘন জনবসতি পরিহার এবং অভয়ারণ্য থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান ইত্যাদি। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত তিনটি সাইটের মধ্যে রামপাল পরিবেশগত ও অন্যান্য সার্বিক দিক দিয়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক ও গ্রহণযোগ্য হওয়ায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য রামপালকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের প্রান্তসীমা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রামপালে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে তা হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৯০২ ফুট উচ্চতার চিমনি ব্যবহার করা হবে, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে পরিশোধিত বায়ু নির্গত হবে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকাসহ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, ইনভাইরনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এসেসমেন্ট (ইআইএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রস্তাবিত মিটিগেশন মেজার্স যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া সুন্দরবন ও পাশ্ববর্তী এলাকায় স্ট্যাটেজিক ইনভাইরনমেন্টাল এসেসমেন্ট (এসইএ) পরিচালনার বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যেই কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে।

সরকারি দলের একেএম শাহজাহান কামালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য খুনি মোশতাক ও জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে বলেন, খুনি মোশতাক ও তার দোসর জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড চালান। দেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেন। সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়। জিয়া নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দেন। তিনি (শেখ হাসিনা) ও তার বোন রেহানা দেশে ফিরতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত আমাদের বিদেশের মাটিতেই পড়ে থাকতে হয়। ওই সময় গোটা দেশকেই কয়েদখানায় পরিণত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসার সময়ও জিয়াউর রহমান তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে সফল হতে পারেননি। কারণ দেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মীবাহিনী সব বাধা উপেক্ষা করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন।

তিনি বলেন, দেশে এসে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে প্রবেশ করতেও তাকে বাধা দেওয়া হয়। বাবা-মা ও ভাইদের জন্য দোয়া করার সুযোগও দেওয়া হয়নি। পুলিশ পাহারা ও গেটে তালা দিয়ে তার পথ রূদ্ধ করা হয়। পরে তিনি রাস্তার ওপরই বসে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া পড়েন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা কেবল হত্যাকাণ্ডই ঘটায়নি, ৩২ নম্বরের বাড়িতে লুটপাটও করেছে। ১৯৮১ সালের ১২ জুন পর্যন্ত ওই বাড়িতে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী কিংবা কোনো মানুষকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ১২ জুন হঠাৎ করে এক ঘণ্টার নোটিশে বাড়িটি তাড়াহুড়া করে হস্তান্তর করা হয়। খুনি ও ষড়যন্ত্রকারীরা জনমানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here