বিএনপির হাতেই নির্বাচনী ব্যবস্থার ধ্বংস এসেছিল: দীপু মনি

0
70

ঢাকা: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ক্ষমতায় থাকার পথকে বৈধতা দিতে অনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দল বিএনপির জন্ম। নির্বাচনী ব্যবস্থার ধ্বংস এই দলটির হাত ধরেই। নির্বাচনে ভোট প্রাপ্তি আর ফলাফলের মধ্যে কোন সম্পর্ক ছিল না। ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটার নিবন্ধনও তারাই করেছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হলে শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, আজকে এদেশে নারীরা যে মাথা উঁচু করে চলতে পারছে তার জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য। আমরা যে দেশটির সাথে ছিলাম তার বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালেই তা উপলব্ধি করা যায়। ৭১’এ বঙ্গবন্ধু যদি তার বলিষ্ঠ কণ্ঠে বাঙালির স্বাধীনতার ডাক না দিতেন তাহলে আমাদের অবস্থাও হয়ত সে রকমই হত।

তিনি বলেন, নারীরা এখন রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসন সবক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। আর এসব ক্ষেত্রে প্রথম নারী হিসেবে যেসব নজির স্থাপিত হয়েছে তার সবই শেখ হাসিনার আমলে। নারীদের মুক্তির সনদ দিয়েছেন তিনি। ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মীকে ভোটারদের পাশে গিয়ে এসব অবদানের কথা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু যে কত উঁচুমানের দূরদর্শী রাজনৈতিক ছিলেন তার প্রমাণ তার লেখা বইয়ের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো। আজ এত বছর পরে এসে বাণীগুলোর সত্যতা মিলছে। ৭১’এ যুদ্ধের পরে একেবারে শূন্য থেকে এদেশকে সাড়ে তিন বছরে যে পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তা অতুলনীয়।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বেনজির হোসেন নিশির সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকিয়া পারভিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, যুব মহিলা লীগের সদস্য হলের সাবেক সভাপতি জাকিয়া জামান নিপা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানজিন শারমিন মিশরি, ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন প্রিন্স, হলের সাবেক সভাপতি খাদিজাতুল কুবরা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মারুফা নাবিলা। সভা সঞ্চালনা করেন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রওনক জাহান।

অধ্যাপক জাকিয়া পারভিন বলেন, ৭১’এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে এদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। যে কাজটি পাকিস্তানিরাও করতে সাহস করেনি সেই কাজটিই করেছিল এদেশের কিছু বিপদগামী সেনা সদস্য। অবাক লাগে কীভাবে এই সেনারা এদেশের স্বপ্নদ্রষ্টাকে হত্যা করতে পেরেছিল। তাদের এই নির্মমতার শিকার হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেসাও। যিনি সকল কাজে বঙ্গবন্ধুকে পাশে থেকে সাহস দিয়েছেন, প্রেরণা জুগিয়েছেন।

নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে বলে উল্লেখ করে সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করতে ছাত্রলীগের এই প্রজন্ম শেখ হাসিনার পাশে থাকবে। বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার পেছনে বেগম ফজিলাতুন্নেসার যে ভূমিকা ছিল তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নারী নেত্রীরাও নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করবে।

জাকির হোসাইন বলেন, একজন নারী নিজে যেমন সমাজের প্রয়োজনে অসামান্য অবদান রাখতে পারে তেমনি চাইলেই তার সহযোদ্ধাকে উৎসাহ প্রেরণা দিয়ে সঠিক পথে রাখতে পারে। আর সেই কাজের উদাহরণ বঙ্গমাতা।

বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষের ফেরিওয়ালা উল্লেখ করে আবিদ আল হাসান বলেন, বাংলার মানুষ যে স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে তার সাহসটা দেখিয়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ভাষণে। বর্তমান প্রজন্মকে তার আদর্শ বুঝে তার হৃদয়ে ধারণ করে সোনার বাংলার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।