বাবা-মার কবরের পাশেই শায়িত হলেন মন্ত্রী ছায়েদুল হক

0
40
ঢাকা: বাবা-মার কবরের পাশে শায়িত হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক।

রোববার বিকেল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামের এস ই এস ডি পি মডেল হাইস্কুল মাঠে তৃতীয় জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় কল্লরপাড় কবরস্থানে বাবা-মার কবরের পাশেই তার লাশ দাফন করা হয়।

এর আগে রোববার দুপুর পৌনে ১টায় তার নিজ নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা নামাজের আগে মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানিকে গার্ড অব অনার দিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের জানাজা নামাজ উপলক্ষে লাখো মানুষের ঢল নামে আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে খেলার মাঠ। জানাজার শুরুতে বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রীপুত্র এএসএম ডা. রায়হানুল হক।
জানাজায় অংশ নেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য এ.বি তাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এম.এসসি, বাংলাদেশ আইন সমিতি সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান আনসারি প্রমুখসহ লাখো জনতা।
জানাজার পর আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই নেতার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সর্বস্তরের মানুষ। এরপর মরদেহবাহী গাড়িতে করে ছায়েদুল হকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি পূর্বভাগ ইউনিয়নের পূর্বভাগ  গ্রামের পশ্চিমপাড়ায়। সেখানে  তৃতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় কল্লরপাড় পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয় মাটি ও মানুষের এ নেতাকে।
এর আগে সকাল পৌনে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ছায়েদুল হকের মরদেহ আনা হয় নাসিরনগরে।
দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে মন্ত্রী ছায়েদুল হককে বহনকারী হেলিকপ্টারটি নাসিরনগর ডিগ্রি কলেজ মাঠে অবতরণ করে। এরপর গাড়িতে করে আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনা হয় তার মরদেহ। ছায়েদুল হকের ইচ্ছা অনুযায়ী বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে মোট পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার নিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে তিনি খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও ছিলেন। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের খ্যাতনামা আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছায়েদুল হক ১৯৪২ সালে জেলার নাসিরনগরে পূর্বভাগ ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম সুন্দর আলী। ১৯৬৮ সালে এম. এ. (অর্থনীতি) ও ৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি পাস করেন।
ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৬৫-৬৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্রলীগের প্যানেলে ভিপি নিবার্চিত হন। ছায়েদুল হক ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ১৯৬৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো নাসিরনগর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিভাগে আওয়ামী লীগের ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও তিনি বিজয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছিলেন।