বাজেটে সমস্যা থাকলে সমাধান হবে: প্রধানমন্ত্রী

0
116
pm_bfuj-duj_iftar_samakal_p_298244ঢাকা: প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট আমরা দিয়েছি। এই বাজেট নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে। বাজেটে কারও কোনো সমস্যা থাকলে সংসদে আলোচনা হবে। আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা হবে।’
এ ছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন’ (বিএফইউজে) ও ‘ঢাকা সাংবাদিক ইউয়িনের’ (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই—বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের পায়ের নিচে নাকি মাটি নেই! ১৯৪৯ সালে এদেশের মাটি ও মানুষের মধ্যে দিয়ে, জনগণের অধিকার আদায়ের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম। আওয়ামী লীগের শিকড় এদেশের মাটির অনেক গভীরে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দলের জন্ম সেই দলের (বিএনপি) পায়ের নিচে মাটি থাকে না, সেটিই হলো বাস্তবতা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কেবল দেশের স্বাধীনতাই নয়, মাতৃভাষা বাংলার অধিকার এনে দিয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। আওয়ামী লীগ কোনো অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর হাতে জন্ম হওয়া রাজনৈতিক দল নয়। আওয়ামী লীগের যখন জন্ম, তখন অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এদেশে ছিল না। বিএনপির জন্মই অবৈধ। সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রথমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক দলই হচ্ছে বিএনপি। এদেশের মাটি ও মানুষের মধ্যে থেকে এ দলটির জন্ম হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘জঙ্গি-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে আমাদের যে অভিযান চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। আর যারা আন্দোলনের নামে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যার হুকুম দিয়েছে—বাংলার মাটিতেই তাদের বিচার করা হবে। কেউ-ই রেহাই পাবে না।’
বাজেটে সমস্যা থাকলে সমাধান হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইফতারের আগে বিশেষ মোনাজাতে প্রধানমন্ত্রী এবং বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতারা—পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু তার জীবন সাংবাদিকতা দিয়ে শুরু করেছিলেন। আমি সবসময় দাবি করি, আমি আপনাদেরই পরিবারের একজন।’

সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের কল্যাণে তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ ফান্ড গঠন করে দিয়েছি। ৭ কোটি টাকার সিড মানি দিয়েছি। তথ্য অধিকার আইন করে দিয়েছি। সংবাদপত্রকে সেবা শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আগে মামলা হলেই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হতো। কিন্তু মামলা হলেই যেন সংবাদপত্রের মালিক-সাংবাদিকদের গ্রেফতার করতে না পারে সেজন্য আইন সংশোধন করেছি। এর ফলে গ্রেফতার নয়, সমন দেয়া হবে। আর আবাসিক সমস্যা সমাধানের জন্য জমির ব্যবস্থার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। আর উত্তরায় রাজউকের ফ্লাটের কিছু রাখতে বলেছি, সেখান থেকে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি দিয়ে সাংবাদিকরা ফ্লাটের মালিক হতে পারবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না। এ কারণেই সংবাদপত্র ও টকশোগুেলোতে ইচ্ছেমেতা সরকারের সমালোচনা হলেও সরকার বাধা দেয় না। তবে নীতিহীন সাংবাদিকতা কিংবা হলুদ সাংবাদিকতা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বঙ্গবন্ধুর একটি উদ্বৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন—নীতিহীন রাজনীতি দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারে না। তেমনি নীতিহীন সাংবাদিকতা দেশের কোনো কল্যাণ করতে পারে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে দেশ, সমাজ ও মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক সময় নানা রকম সমস্যাও সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা সংক্রান্ত সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তার ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করেছি। কিন্তু মালিকপক্ষ থেকে তাদের প্রতিনিধির নাম না দেওয়ায় এই প্রক্রিয়া আটকে আছে। এখানে সরকারের কোন দোষ নেই, মালিকদেরই দোষ। এখানে অনেক গণমাধ্যম মালিক রয়েছেন। আপনাদের বলবো, আপনারা প্রতিনিধি দিন। প্রতিনিধি পেলেই আমরা ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করবো। আর ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমকেও একটি নীতিমালাসহ এই নবম ওয়েজবোর্ডের আওতায় আনতে হবে।’
সব সংবাদপত্রে ওয়েজবোর্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সাংবাদিক হত্যাসহ অত্যাচার-নির্যাতন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই সময় সাংবাদিকরা সত্যিই এক বিভীষিকাময় অবস্থা পার করেছেন। শত শত সাংবাদিক অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও ওই সময় একটি সাংবাদিক হত্যার বিচার করা হয়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিক হত্যার বিচার শুরু হয়েছে, যার ফলও সাংবাদিকরা পাচ্ছেন। আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের যেমন বিচার করেছি ও করছি, তেমনি প্রতিটি সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছি। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস নেই বলেই বিএনপি নেত্রী মামলা মোকাবেলা করতে ভয় পান। ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি নেত্রী এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। সেই মামলা মোকাবেলা করতে তিনি এখন ভয় পান। মামলাকে বিলম্বিত করতে ১৪৬ বার রিটসহ নানা প্রকারে সময় চেয়েছেন, তারিখ বদলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল। ২০০৭ সালে প্রায় এক ডজন মামলা হয়েছিল। আমি তো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে চলে এসেছিলাম। আমি বলেছিলাম, আমি মামলা মোকাবেলা করবো। কারণ আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমি কোন অন্যায় করিনি। যাদের এই আত্মবিশ্বাসের অভাব তারাই মামলা থেকে পলায়ন করে। এতিমের টাকা মেরে খেয়ে পলায়ন করে যাবেন কতদূর—সেটাও একটা কথা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালির জীবনে যদি ১৫ আগস্টের ঘটনা না আসতো, জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা না হতো তবে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ সারাবিশ্বের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরই শুরু হয় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। যার শিকার হতে হয় সেনা-নৌ-বিমান বাহিনীসহ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের। অনেক বলেন, জিয়াউর রহমান নাকি গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন? জিয়াউর রহমান প্রতি রাতে কারফিউ দিয়ে দেশ চালিয়েছেন। এটাকে কারফিউ গণতন্ত্র বললে আমার কিছু বলার নেই।’
তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মোশতাক এক সেনাপ্রধানকে সরিয়ে জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করেন। সেনাপ্রধান হয়েই রাষ্ট্রপতি সায়েমকে গিয়ে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘স্যার আপনি অসুস্থ’। তখন সায়েম সাহেব বলেন, ‘আমি তো সম্পূর্ণ সুস্থ’। তখন অস্ত্র দেখিয়ে তাকে পদত্যাগ করিয়ে সংবিধান ও সেনা আইন লঙ্ঘন করে জিয়াউর রহমান একধারে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন থেকে দেশে ১৯টা ক্যু হয়েছে।’ স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় নিয়ে আসায় বাংলাদেশের উন্নয়ন থমকে যায়। সঙ্গীনের খোঁচায় সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত এবং নির্বাচনে কারচুপির সূচনাও করেন এই জিয়াউর রহমান।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভিক্ষুকের জাতি নয়, আমরা আত্মনির্ভরশীল হতে চাই। বিএনপির রাজনীতিই হচ্ছে জাতিকে ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে দেখিয়ে বিদেশ থেকে ভিক্ষা এনে লুটে খাওয়া। যারা জাতিকে ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করে রাখতে চায়, তারা দেশের কল্যাণ করবে কীভাবে? কিন্তু আমাদের সরকারের নীতিই হচ্ছে—আমরা ভিক্ষা নিয়ে চলতে চাই না, আত্মনির্ভরশীল হতে চাই। সে কারণেই আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।’
দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও কল্যাণে তার সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবো। সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়বো।’
বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের মহাসচিব ওমর ফারুক, ডিইউজের সভাপতি শাবান মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী।
ইফতারের আগে দেশ, জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান।

– See more at: http://bangla.samakal.net/2017/06/04/298244#sthash.ERmb9IdK.dpuf