বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন প্রতিবেদন ভিত্তিহীন: তথ্যমন্ত্রী

0
17

ঢাকা: বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, এই প্রতিবেদন একতরফা, মনগড়া এবং ভিত্তিহীন। রোববার সচিবালয়ে নিজ দফতরে তিনি এ কথা বলেন।

বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের ২০১৭ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন সুলিভান। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটা দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, আর্থিক প্রতিবেদন দেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের ভাষ্য না নেয়াটা কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ। আমরা এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বাংলাদেশের যে দুটি বেসরকারি সংস্থার বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেগুলো হচ্ছে- অধিকার এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

এই দুটি সংস্থা সম্পর্কে হাসানুল হক ইনু বলেন, অধিকার সংগঠনটি রিপোর্ট দিয়েছিল, শাপলা চত্বরে হেফাজতের হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। পরে সরকার থেকে তাদের কাছে মৃত ব্যক্তিদের তালিকা চাওয়ার পরও তারা তালিকা দিতে পারেনি।

পরবর্তীকালে দেখা গেছে, যাদের মৃত বলা হয়েছিল তারা বেঁচে আছে। অধিকার সংগঠন যে, কোনো ভালো রিপোর্ট দেয় না তার প্রমাণ এটাই। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলেছে, গত বছর বাংলাদেশে ১৬২ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

অপরদিকে অধিকার সংগঠনটি বলেছে, গত বছর বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১১৮ জন। এ দুটি সংস্থার নিজেদের প্রতিবেদনের মধ্যেই অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এই দুটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ২০ এপ্রিল মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর রিপোর্ট দেয়।

আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি। তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা সম্পর্কে রিপোর্টে যা বলা হয়েছে তা সঠিক নয়। বিচারপতি এসকে সিনহা নিজেই নিজেকে নানাবিধ বিতর্কে বিতর্কিত করে রিজাইন দিয়ে চলে গেছেন।

জামায়াত সম্পর্কে প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে তাও সঠিক নয় বলে দাবি করেন হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, জামায়াত কোনো এনজিও নয়। জামায়াত ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন হারিয়েছে।

কিন্তু রাজনীতিতে ক্রিয়াশীল রয়েছে। বাংলাদেশের বিচারকরা ঘুষ খান মার্কিন প্রতিবেদনটিতে করা এমন মন্তব্য ‘একটি হালকা মন্তব্য’ বলে অভিহিত করেন তথ্যমন্ত্রী।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মানবাধিকার ইস্যু ছিল সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, বেআইনি আটক ও গুম এবং নাগরিক স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ।

এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে না। কাজেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের দায়মুক্তি দেয়ার কোনো এখতিয়ার কারও নেই।

‘বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ও এনজিও কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়া হচ্ছে’- প্রতিবেদনের এমন মন্তব্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন, দুই হাজারের বেশি এনজিও ও স্বাধীন গণমাধ্যম কাজ করছে।

বাংলাদেশের অনলাইন গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের কোনো বিরোধ সৃষ্টির ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৮ বছরের কম বয়সী বালিকাদের বিবাহ নিষিদ্ধ করে আইন চলমান আছে।