বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে চান না খালেদ মাহমুদ

0
39

স্পোর্টস ডেস্ক: নিজেদের আঙিনায় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ ও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হারার পর প্রচণ্ড সমালোচনা হচ্ছে। এতে ভীষণ ক্ষেপেছেন বাংলাদেশ দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ। তার কাছে মনে হয়েছে, এসব সমালোচনা নোংরা।

তাই তিনি আর কাজ চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক নন। গণমাধ্যমের ওপরও রুষ্ট তিনি। কাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি আর আগ্রহী নই। আমার আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছা করছে না।

সত্যি বলতে কী, নোংরা লাগছে। এত বছর ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কাজ করছি। এখানে আমার কোনো স্বার্থ নেই। আমি আর কাজ করতে আগ্রহী নই।’ তিনি বলেন, ‘যদি আমার মনে হয় যে, আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছু করছি না, তাহলে আমার এখানে থেকে লাভটা কী। স্বার্থের জন্য আসিনি। আমার যা আছে তা নিয়ে আমি খুব ভালো আছি। এখানে চাকরি করি, যা পাই তাতে আমি খুশি।’

একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব পালন করেন খালেদ মাহমুদ। তিনি বিসিবির পরিচালক, জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর। নির্বাচকের দায়িত্বেও আছেন। একই সঙ্গে ঢাকা লীগের দুটি ক্লাবের কোচ। দায়িত্বের ভারে নুয়ে পড়েছেন- এসব নিয়ে অনেকবারই মিডিয়ায় খবর এসেছে।

এতেই চটেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। নোংরা বলতে আসলে আপনি কোন বিষয়টা বোঝাতে চাইছেন? খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘সবকিছুই। নোংরা বলতে মিডিয়ায় যেভাবে লেখা হয়। মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেট আটকে আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে।’ তাহলে কী আপনি আর কাজ করবেন না?

তিনি বলেন, ‘কাজ করব না এ কথা বলতে চাই না। কিন্তু এদেশে কেউ কাজ করলে সেটাই আসলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে যায়। বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পর আমি এখনও টিকে আছি। থাকব কিনা সেটা বোর্ড ঠিক করবে। কারণ পজিশনটা তো আমাকে বোর্ড দিয়েছে।’

দ্বিতীয় টেস্টে মোসাদ্দেক হোসেনকে বাদ দিয়ে হঠাৎ সাব্বির রহমানকে নেয়া হয়েছিল। মোসাদ্দেক ঢাকা লীগে আবাহনীর হয়ে খেলেছেন। অনেকের ধারণা, আবাহনীর হয়ে খেলানোর জন্যই মোসাদ্দেককে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

তাহলে কী সব রাগ মিডিয়ার ওপর? খালেদ মাহমুদ বলেন, “আমি তো ‘গড’ নই। আমি খালেদ মাহমুদ। খুবই সামান্য একজন মানুষ। অনেক ছোট থেকে ক্রিকেট নিয়ে কাজ করছি। ম্যাচে পরিকল্পনায় ভুল থাকতে পারে। টেকনিক্যাল দিকটা খারাপ হতে পারে। কিন্তু মিডিয়ায় যখন আসে আমি আবাহনীর কোচ বলেই মোসাদ্দেককে দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ দিয়েছি, তখন খুবই আহত বোধ করি।

মোসাদ্দেক আর আবাহনী যদি বাংলাদেশের ম্যাচ হারার কারণ হয়, তাহলে ব্যাপারটা কঠিন হয়ে যায়। প্রথম টেস্টে মোসাদ্দেক ৫৩ বলে নয় রান করেছে আমিও দেখছি। আমারও ক্রিকেট জ্ঞান আছে। ১৯৮৩ সালে ক্রিকেট শুরু করেছি, এখন তো চুলও পেকে গেছে।

আপনারা হয়তো আরও ভালো বোঝেন। আজকে এমনও শুনি যে, রাস্তায় নামলে নাকি মারও খেতে হতে পারে। ক্রিকেট খেলার জন্য রাস্তায় মার খেতে হলে তো খুবই বিব্রতকর ব্যাপার।”

তিনি বলেন, ‘মিডিয়ায় ভালো-খারাপ সবই হবে। কিন্তু কিছু ব্যাপারে খুব বেশি নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছে। কীভাবে কী হয় সেটা ঠিকভাবে না এলে আমার মনে হয় না যে, বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দূর যাবে।’

খালেদ মাহমুদের ধারণা, তাকে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে সবার সামনে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সংবাদমাধ্যম। তিনি বলেন, ‘বলতে চাচ্ছি, আপনারা কিছু প্রতিষ্ঠা করতে চান। চন্ডিকা (হাথুরুসিংহে) চলে গেলেন কেন? অনেক কিছু প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

অনেক কিছু করানো হয়। আমার পেছনে যদি লেগে থাকে এভাবে, তাহলে ভালো করলেও কখনও ভালো বলবে না।’ খালেদ মাহমুদের অনেক নেতিবাচক খবর মিডিয়া জেনেও প্রকাশ করেনি, সেটা হয়তো ভুলে গেছেন তিনি।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ও দ্বিতীয় টেস্টে হারের কারণ হিসেবে উইকেট, বাংলাদেশের ভুল পরিকল্পনা ও দল নির্বাচনকেই দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু খালেদ মাহমুদ সরাসরি খেলোয়াড়দের দায়ী করলেন।

তিনি বলেন, ‘যা আশা করেছিলাম, সেটা হয়নি। টেস্ট সিরিজ আমরা জিততে পারতাম। আমরা যা পরিকল্পনা করেছিলাম, যেটা কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম, সেটা ঠিকঠাক হয়নি। সবচেয়ে বড় জিনিস আমরা চাপটা নিতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘যদি উইকেটের দোষ দিতে হয়, তাহলে আমাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উইকেট একটা অজুহাত মাত্র। বোলিং-ব্যাটিং আমরা ভালো করতে পারিনি। শ্রীলংকার খেলোয়াড়রা কী সবাই স্টিভ স্মিথ! আমরা একথা চিন্তা করি না কেন যে, আমাদের খেলোয়াড়রা ভুল করেছে।’ তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসে। আমি ওসবে যেতে চাই না। করলে অনেক কিছুই কাটাছেঁড়া করা যায়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here