বাংলাদেশের ৮৯টি নতুন স্থান যুক্ত হলো গুগল স্ট্রিট ভিউয়ে

0
165

google-street-viewগত বছরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার স্ট্রিট ভিউ উদ্বোধনের ধারাবাহিকতায় গুগল আজ বহস্পতিবার বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরের স্ট্রিট ভিউসহ ৮৯টি বিশেষ স্থান, স্থাপনা ও স্থাপত্য নিদর্শনের স্ট্রিট ভিউ উদ্বোধন করল। এর ফলে গুগল ম্যাপে বা মানচিত্রে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আঁকাবাঁকা নদী ও উত্তরাঞ্চলের ঘন সবুজময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, পরিবেশের বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থাপনাসমূহ দেখাটা এখন আপনার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।

গুগল দুর্দান্ত এই উদ্যোগ নেওয়ার ফলে এখন মুঘল আমলে নির্মিত ঢাকার ঐতিহাসিক দুর্গ লালবাগ কেল্লাসহ কারুকার্যময় ও হাজার বছরের ঐতিহ্যমন্ডিত নানা স্থাপত্য নিদর্শন ও চারপাশের ছবি অনলাইনে দেখতে পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে মুঘল ও ইউরোপীয় ডিজাইন বা নকশার মিশ্রণে তৈরি কার্জন হল (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার প্রাচীন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার (সোমপুর মহাবিহার নামেও সমধিক পরিচিত) ছবিও পাওয়া যাবে।

রাজধানী ঢাকা তথা পুররান ঢাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গ লালবাগ কেল্লা সরাসরি গিয়ে সামনে থেকে সেলফি তুলতে না পারলেও গুগলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কার্জন হলের ভার্চুয়াল স্ট্রলের সুযোগ অর্থাৎ এলাকাটি দেখে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ততাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নওগাঁ জেলার সোমপুর মহাবিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার। জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৮৫ সালে এটাকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট বা বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ চা উৎপাদনে বিশ্বের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। আর বাংলাদেশে চা উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত হলো সিলেট। সুতরাং গুগলের এই উদ্যোগের ফলে আপনি এখন টি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা চা গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সিলেটের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে অবস্থিত চা বাগানের সবুজ নৈসর্গিক পরিবেশ ও চা উৎপাদনের ছবি দেখতে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের দিকে গেলেই দেখতে পাওয়া যাবে বাংলাদেশের প্রথম চা বাগান ‘মালনি ছড়া চা বাগান’।

এছাড়া প্রকৃতি দেখতে যারা ভালোবাসেন তারা দেখে নিতে পারেবেন বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন ও বিশ্বের দীর্ঘতম স্থিতিশীল (আনব্রোকেন বীচ) সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। আর ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেনে (জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান) থাকা দুষ্প্রাপ্য সব উদ্ভিদ ও গাছ দেখার সুযোগও রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব দিকের এই সি­পিং ফিশিং স্পটটি পর্যটকদের কাছে দিনদিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ঢাকার ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেন বা জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে রয়েছে ৫০ হাজার রকমের গাছ, তৃণলতা, গুল্ম  জলজ উদ্ভিদ ও চারা। গুগল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গুগল ম্যাপ বা মানচিত্রে বাংলাদেশের ছবিগুলো দেখলে নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি এই বাংলাদেশের অপরূপ রূপ ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ আপনাকে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট ও মুগ্ধ করবে এবং প্রেরণা জোগাবে। তাই আমরা আপনাকে সশরীরে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশ বাংলাদেশ ভ্রমণেরও আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here