বাংলাদেশের সামনে রানের পাহাড় গড়ছে প্রোটিয়ারা

0
10

তৃতীয়দিন শেষে : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৯৬/৩ ডিক্লেয়ার ও ৫৪/২ * বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ৩২০

আলোক স্বল্পতায় পচেফস্ট্র–ম টেস্টের তৃতীয়দিনের খেলা শেষ হল একটু আগেভাগেই। ১৭৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা আট উইকেট হাতে রেখে এরইমধ্যে ২৩০ রানের লিড নিয়েছে। ম্যাচের বাস্তবতায় এখনও চালকের আসনেই রয়েছে স্বাগতিকরা।

তবু ব্যাটে-বলে শনিবার সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনটা ছিল বাংলাদেশের। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সাদা পোশাকে নিঃসন্দেহে এটাই বাংলাদেশের সেরা দিন। মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহর লড়াকু ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে ৩২০ রানে থামে টাইগাররা। এরপর বোলিংয়েও দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁপিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

দুই উইকেটে ৫৪ রানে তৃতীয়দিন শেষ করে স্বাগতিকরা। হাশিম আমলা ১৭ ও টেম্বা বাভুমা তিন রানে অপরাজিত। প্রথম ইনিংসের মতো এবার আর ভোগান্তির কারণ হতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী জুটি। ৩৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের দুই পেসার। শফিউল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। ডিন এলগারকে এলবিডব্ল–র ফাঁদে ফেলে প্রথম ব্রেকথ্র“ এনে দেন শফিউল। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি এলগার। প্রথম ইনিংসে ১৯৯ রান করা প্রোটিয়া ওপেনার এবার আউট ১৮ রানে। আরেক ওপেনার এইডেন মার্করাম মোস্তাফিজের কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৫ রানে। টিভি রিপ্লেতে অবশ্য দেখা গেছে ব্যাটে লাগেনি বল। এ দুই উইকেটই বাংলাদেশকে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিয়েছে।

ব্যাটিংয়ে এদিন বাংলাদেশের অনেক প্রাপ্তি যেমন আছে, তেমনি আক্ষেপও কম নয়। আরও বড় কিছুর সম্ভাবনা জাগিয়েও ফিফটিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মুমিনুল হক (৭৭) ও মাহমুদউল্লাহকে (৬৬)। বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশকেও থামতে হয়েছে ৩২০ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস। আগের সর্বোচ্চ ছিল ২৫২। তবে সব মিলিয়ে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে নিজেদের আগের সর্বোচ্চকে ছাড়াতে পারেনি টাইগাররা।

২০১৫ সালে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩২৬ করেছিল বাংলাদেশ। কাল সেটি ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু মাত্র ২৮ রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তারপরও স্বস্তির ব্যাপার হল, দক্ষিণ আফ্রিকায় এই প্রথম অন্তত ইনিংস ব্যবধানে হারতে হচ্ছে না বাংলাদেশকে।

২০০২ ও ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খেলা আগের চারটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

এবার মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে সেই শঙ্কা কাটিয়ে ফলো-অন এড়ায় টাইগাররা। তারপরও প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার লিড ১৭৬ রানের। আগেরদিন তিন উইকেটে ৪৯৬ রানে স্বাগতিকরা তাদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করার পর তিন উইকেটে ১২৭ রানে দিন শেষ করে বাংলাদেশ।

শনিবার পচেফস্ট্রুম টেস্টের তৃতীয়দিনে প্রথম সেশনে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে ৯১ রান যোগ করে বাংলাদেশ। এ সেশনে শুধু আউট হয়েছেন তামিম ইকবাল। ২২ রানে দিন শুরু করা তামিম ফেলুকওয়ায়োর বাজে এক বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৩৯ রানে। এরপর ৬৯ রানের পঞ্চম উইকেট জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহ। প্রোটিয়া পেসারদের চ্যালেঞ্জ দারুণভাবে সামলে ক্যারিয়ারের ১২তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন মুমিনুল। শেষ পযন্তু ১৫০ কলে ৭৭ করে মহারাজের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস এটি।

এরপর সাব্বির রহমানকে নিয়ে আরেকটি ফিফটি জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। দু’জনই ফিরেছেন প্লেডঅন হয়ে। ৪৬ বলে ৩০ করে অলিভিয়েরের শর্ট বল স্টাম্পে টেনে আনেন সাব্বির। একইভাবে মরনে মরকেলকে নিজের উইকেটটি উপহার দিয়ে আসেন মাহমুদউল্লাহ। ১২৪ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৬৬ রান। এটি তার ১৪তম টেস্ট ফিফটি।

এ দু’জনের বিদায়ের পরই ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। পাঁচ উইকেটে ২৯২ থেকে চা-বিরতির আগে ও পরে নয় ওভারের মধ্যে বাকি পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৩২০ রানে অলআউট বাংলাদেশ। চা-বিরতির পর রাবাদার বাউন্সারে মিরাজের বিদায়ের পর শফিউলকে ফিরিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন মহারাজ। ৯২ রানে তিন উইকেট নিয়ে এই স্পিনারই দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার। এছাড়া মরকেল ও রাবাদা নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

দু’দিন মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাট করেছে ৮৯.১ ওভার। চারটি পঞ্চাশের জুটির একটি তিন অংক ছুঁলেই বাংলাদেশের জন্য দিনটি আরও রঙিন হতে পারত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here