বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বদ্ধপরিকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
242

195858asadujjman_khanবর্তমান সরকার দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বদ্ধপরিকর জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, দুষ্কৃতিকারী ও সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে, যাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে সেজন্য দেশের সব থানায় নিয়মিত তল্লাশি এবং সন্দেহভাজন লোকদের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা জানান।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নুরজাহান বেগমের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে সরকার আন্তরিক ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সরকার পুলিশ বাহিনীর জনবল বৃদ্ধিসহ পরিবহন ও অন্যান্য লজিস্টিকস বৃদ্ধি করেছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য নিয়মিতভাবে পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, দুষ্কৃতিকারীরা যাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে সেজন্য দেশের সব থানা এলাকার মেস, ভাড়া ঘর, আবাসিক হোটেল ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি ও সন্দেহভাজন লোকদের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নয়নের লক্ষ্যে সুশীল সমাজ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তায় সভা-সেমিনারের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। জেলা থেকে মাদকদ্রব্য নির্মূল করার লক্ষ্যে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ‘মাদক নির্মূল তথ্য সেল’ খোলা হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড বন্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পর্যায়ে প্রতিটি ডিজি লেভেল কনফারেন্সে আলোচনা হয়ে থাকে। ভারতীয় সরকার সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছে। ইতিমধ্যে বিএসএফ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের পরিবর্তে নন-লেথাল উইপন (অস্ত্র) ব্যবহার করছে।

তিনি আরো জানান, ২০০৬ সালে যেখানে সীমান্তে ১০৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলো, ২০১৫ সালে তা নেমে ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের ২৯ মে পর্যন্ত সীমান্তে বিএসএফের হাতে ৮ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিসংখ্যানটি পর্যালোচনা করলে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা আগের তুলনায় ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।