বছরের প্রথম অধিবেশন শুরু, চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

0
84

ঢাকা: সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে দশম জাতীয় সংসদের ১৯তম (শীতকালীন) এবং নতুন বছরের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। রোববার বিকেলে ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এই অধিবেশন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

রেওয়াজ অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে অধিবেশনজুড়ে সাধারণ আলোচনা হবে।

সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা ৪৫ ঘণ্টা আলোচনা করবেন। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে প্রয়োজন হলে অধিবেশনের মেয়াদ স্পিকার বাড়াতে বা কমাতে পারেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় অধিবেশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অংশ নেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু করেন।

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন পরিচালনার জন্য ৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর নাম ঘোষণা করেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তারা হলেন- কর্নেল (অব.) ফারুক খান, পঞ্চানন বিশ্বাস, বিএম মোজাম্মেল হক, মো. ফখরুল ইমাম ও বেগম সায়েরা মহসিন।

পরে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। পরে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিতে জাতীয় সংসদ গ্রহণ করে।

শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোক প্রস্তাব গ্রহণ শেষে সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক এবং গোলাম মোস্তফা আহমেদ-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন মূলতবি করা হয়।

মূলতবি শেষে অধিবেশনকক্ষে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি স্পিকারের পাশে নির্ধারিত ডায়াসে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন। রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-সাফল্য ও দেশের অগ্রগতির বিষয়গুলো ভাষণে তুলে ধরেন। ভাষণের সময় মুহুর্মুহু টেবিল চাপড়িয়ে অভিনন্দন জানান সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা।

অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদ ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। সকাল থেকেই চারপাশে অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জলকামান থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখে প্রশাসন।

এমনকি সংসদ ভবনে প্রবেশ নিয়েও ছিল কঠোর কড়াকড়ি। সংসদ অধিবেশন পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াতকে ছাড়াই এই সংসদ যাত্রা শুরু করে। সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি বিগত অধিবেশনগুলোর মতো তাদের সরব উপস্থিতি ছিল। আর বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেও সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ করা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here