ফ্লোরিডার হত্যাকান্ড নিয়ে ঘোলাটে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ

0
204

obama_meetingফ্লোরিডার অরল্যান্ডোয় ভয়াবহ হামলা নিয়ে ঘোলাটে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি। ইতিমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ ঘটনা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ছে দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ। এ সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিন্দা জানালেও এ সমস্যা কীভাবে মোকাবেলা করা হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিভেদ তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। এখবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস।

দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিভক্ত মত প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এরই মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন রিপাবলিকান সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ হামলার পর হিলারি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। মুসলমানদের দোষারোপ না করে দেশের ভেতর-বাইরে সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলায় মার্কিন তৎপরতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী বুধবার প্রথমবারের মতো হিলারি ও ওবামার এক মঞ্চ থেকে প্রচার শুরু করার কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে।

হিলারি রোববার এক টুইটে বলেন, ‘এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর আরও সচেতন হতে হবে আমাদের। আমরা এ বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা করছি। যারা এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা।’ এর আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পালস নাইটক্লাবের এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী’ হামলা বলে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, এ হামলা বিদ্বেষপ্রসূত একটি ঘৃণ্য কাজ।

পালস নাইটক্লাবে হামলার পর রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েন ট্রাম্প। নিজের মুসলিমবিরোধী অবস্থান সঠিক উল্লেখ করে তিনি ডেমোক্রেটিক দলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারিকে একের পর এক সাঁড়াশি আক্রমণ শুরু করেছেন। বিতর্কিত এই ধনকুবেরের দাবি, হামলার পেছনে ইসলামী সন্ত্রাসবাদীদের সংশ্লিষ্টতার কথা প্রকাশ্যে বলতে না পারলে, ওবামার উচিত পদত্যাগ করা। হিলারিরও উচিত প্রেসিডেন্ট পদের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানো। রোববার রাতে পালস নাইটক্লাবের হামলায় ৫০ জন নিহত হন। আহত হন আরও ৫৩ জন।

হামলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ট্রাম্প জোর ঘোষণা দেন, ইসলামী চরমপন্থা সম্পর্কে তার অবস্থানই সঠিক। এর প্রমাণ পালস নাইটক্লাবের হামলা। প্রেসিডেন্ট ওবামা যদি এ হামলার জন্য কট্টরপন্থি ইসলামকে দায়ী করতে না পারেন তাহলে তার উচিত ক্ষমতা থেকে এখনই পদত্যাগ করা।

হিলারিকে উদ্দেশ করেও এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘এ হামলার পর হিলারি ক্লিনটন যদি কট্টর ইসলাম শব্দ দুটি উচ্চারণ করতে না পারেন, তাহলে প্রেসিডেন্ট পদের লড়াই থেকে তার সরে দাঁড়ানো উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাস মোকাবেলায় আমাদের আর রাজনৈতিকভাবে সঠিক থাকার সুযোগ নেই।’

ট্রাম্প আগেও যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রেখেছিলেন। এদিকে রিপাবলিকান নেতা মিট রমনির একসময়ে প্রধান নির্বাচনী উপদেষ্টা স্টুয়ার্ট মনে করেন, ট্রাম্প একেবারেই শিশুতোষ কথাবার্তা বলছেন।

দেশ যখন শোকস্তব্ধ, তখন কি-না ট্রাম্প নিজের অবস্থান সঠিক দাবি করে লোকজনের অভিনন্দন কুড়িয়ে বেড়াচ্ছেন!