ফ্রি হয়ে গেলো সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা : ঠিকানা ফ্রি করার কোন পরিকল্পনা নেই : লাবলু আনসার

0
1021

10232016_14_thikana_bangla_patrika-768x1000নিউইয়র্ক : দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত প্রবাসের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা অবশেষে ফ্রি হয়ে গেলো। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার বাংলা পত্রিকা প্রথম ফ্রি প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি টানা ২০ বছর ধরে সপ্তাহের প্রতি সোমবার প্রকাশিত হয়ে আসছিলো এবং মূল্য ছিলো এক ডলার। এদিকে নিউইয়র্কের অপর শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া সাপ্তাহিক ঠিকানা ফ্রি হচ্ছে না বলে জানা গেছে। ফলে ঠিকানা-ই এখন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা প্রিন্ট মিডিয়াগুলোর মধ্যে একমাত্র পেইড পত্রিকা। ঠিকানা’র মূল্য এক ডলার। উল্লেখ্য, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ফ্রি হওয়ার মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক থেকে নিয়মিত/অনিয়মতিভাবে প্রকাশিত ফ্রি পত্রিকার সংখ্যা দাঁড়ালো প্রায় দুই ডজন। আর নিউইয়র্কের ফ্রি বাংলা মিডিয়ার ‘জনক’ সাপ্তাহিক দেশবাংলা, বাংলা টাইমস ও আনন্দ ম্যাগাজিনের প্রকাশক ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান। ২০০১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউইয়র্কের প্রথম ফ্রি পত্রিকা সাপ্তাহিক দেশবাংলা প্রকাশক ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান আর পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন ডা. আফরোজা বানু এবং ব্যবস্থাপনা সস্পাদক ছিলেন মাহফুজুর রহমান (বর্তমানে সাপ্তাহিক বর্ণমালা’র প্রধান সম্পাদক) খবর ইউএনএ’র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার বাংলা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলা পত্রিকা প্রকাশের সময় এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক, সিলেট থেকে প্রকাশিত যুগভেরী’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন সনামধন্য সাংবাদিক আবু তাহের (বর্তমান সম্পাদক) আর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নিয়াজ মাখদুম (বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক)। শুরুতে বাংলা পত্রিকা ব্রডসীটে (বড় আকার) প্রকাশিত হতো এবং মূল্য ছিলো ৭৫ সেন্ট। বাংলা পত্রিকাই ছিলো নিউইয়ক থেকে প্রকাশিত ব্রডসীট আকারে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা। প্রায় দেড় বছর বাংলা পত্রিকা বড় আকারে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে পত্রিকাটি ট্যাবলয়েট আকারে ৯৬ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয় এবং মূল্য নির্ধারিত হয় এক ডলার। সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক এবং টাইম টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা সিইও আবু তাহের সিলেট ও ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বাংলা পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র সাংবাদিক, বিশিষ্ট লেখক ও সাবেক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে ‘পরিবর্তণ’ নামে একটি সাপ্তাহিক আর ‘দৈনিক বাংলা’ নামে আরো দুটি পত্রিকা বড় আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পত্রিকা দু’টির প্রকাশনা আর অব্যহত রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে প্রবাসের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় ও জনপ্রিয় পত্রিকা সাপ্তাহিক ঠিকানা ফ্রি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। ১৯৯০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী প্রকাশিত ঠিকানা দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে সপ্তাহের প্রতি বুধবার প্রকাশিত হয়ে আসছে। ঠিকানা ফ্রি হওয়া না হওয়া সম্পর্কে পত্রিকাটির সম্পাদক লাবলু আনসার বার্তা সংস্থা ইউএনএ’র এক প্রশ্নের উত্তরে টেলিফোনে জানান, ঠিকানা ফি করার কোন পরিকল্পনা আগেও ছিলো না এখনও নেই।

সাপ্তাহিক ঠিকানা বরাবরই ট্যাবলয়েট আকাশে প্রকাশিত। ঠিকানার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সাবেক এমপি এম এম শাহীন (বর্তমান সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি)। ঠিকানার সিইইও সাঈদ-উর রব। তিনি ইতিপূর্বে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান। ঢাকার অধুনালুপ্ত দৈনিক রূপালী পত্রিকা’র সাবেক শিফট ইন চার্জ মুহাম্মদ ফজলুর রহমান প্রথমে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র বার্তা সম্পাদক, পরবর্তীতে ঠিকানা গ্রুপ থেকে প্রকাশিত অধুনালপ্ত সাপ্তাহিক দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্পাদক লাবলু আসনার দীর্ঘদিন ঠিকানা’র নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঠিকানা গ্রুপের বার্তা সংস্থা আমেরিকা নিউজ এজেন্সী-এনা’র সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকার অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলা ও বিটিভি’র জামালপুর জেলা প্রতিনিধি লবালু আনসার ঠিকানা’র পাশাপাশি এনআরবি নিউজ নামের একটি বার্তা সংস্থাও পরিচালনা করছেন। ঠিকানা’র নির্বাহী সম্পাদক জাভেদ খসরু। অপরদিকে এনা’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ঠিকানা’র বার্তা সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান।