ফেসবুকে সোহেল তাজের হৃদয়গ্রাহী স্টেটাস

0
103

5-1নিউজ ডেস্ক: ফেসবুকে এক হৃদয়গ্রাহী স্টেটাস দিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেইজে সোহেল তাজ লেখেন, আজ থেকে ঠিক ৪১ বছর আগে এই দিনে একটি পাঁচ বছর বয়সের ছোট্ট ছেলে হারাল তার প্রিয় বাবাকে। যার হাত ধরে সে যেত বাড়ির পাশে আবাহনির মাঠে। যার হাত ধরে ধানমণ্ডির সাত মাসজিদ রোডের রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে খুঁজে পেয়েছিল তার প্রথম স্কুল।

টেলিভিশনের পর্দায় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত আর জাতীয় পতাকা পরিবেশিত হলে যিনি সব সময় মনে করিয়ে দিতেন দাঁড়িয়ে স্যালুট করে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে। যিনি কোমল ভাবে বোঝাবার চেষ্টা করতেন মুক্তিযুদ্ধে লাখো মানুষের আত্মত্যাগের কথা। যিনি এই ছোট্ট ছেলেটিকে একটি আত্মবিশ্বাসী দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করার গুরুত্ব শেখাবার চেষ্টা করেছিলেন এবং অনুপ্রেরণা যোগানোর চেষ্টা করেছিলেন নানা কায়দায়।

এ ছেলেটির জীবনটা হঠাৎ করে পাল্টে গেল একদিন। ছেলেটি দেখতে পেল একটি লাশ, তার বাবার লাশ। লাশটি রাখা হলো একটি রুমে আর সেই লাশ দেখতে আসল হাজারো মানুষ। সেও অবাক হয়ে দেখতে লাগল সবার সাথে। পরে সেও গেল বনানি কবরস্থানে। সেখানে সবাই তাকে প্রথমে মাটি দিতে বলল- সেও দিল। তার কাছে মনে হচ্ছে এটা যেন একটি স্বপ্ন এবং এই স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে সে ভেসে যাচ্ছে।

আস্তে আস্তে সময় পার হতে লাগল আর সেই স্বপ্নের আবরণ ধীরে ধীরে কেটে যেতে লাগল। তারপর থেকে তার মনে খালি প্রশ্ন আর প্রশ্ন। তার কেন বাবা নেই? অন্য সবার তো বাবা আছে। আরও সময় পার হলো কিন্তু প্রশ্নগুলো আরও জটিল হতে লাগল। কেন মেরে ফেলা হলো তার প্রিয় বাবাকে? উনি কি অন্যায় করেছিলেন? ওনাকে জেলে কেন রাখা হয়েছিল? আর জেলখানায় মেরে ফেলল কারা এবং কেন? এই প্রশ্নগুলো যখন তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তখন সে তার মাকে বলতে শুনত, “আমি আমার স্বামী হারিয়েছি আর আমার সন্তানরা তাদের বাবাকে হারিয়েছে, কিন্তু দেশ কি হারাল? আমাদের ক্ষতি থেকে দেশের আরও মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গেল”।

তারপর ৪১ বছর পার হয়ে গেল। ছোটবেলার সেই দুখ, কষ্ট আর যন্ত্রণা নিয়েই বছরগুলো পার করল। সে বুঝতে পারল যে তার সত্তা তার সেই হারানো বাবার মাঝেই লুকিয়ে আছে।

আজ ৩ নভেম্বর ২০১৬। আজ ধেকে ৪১ বছর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিলে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সারকারের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এম মুনসুর আলি, খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

বাংলাদেশ তার সত্ত্বা খুঁজে পাবে তখনই যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সহ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন (অব.) এম মুনসুর আলি, এ এইচ এম কামরুজ্জামান দের মতো সকল নেতাদের আত্মত্যাগ, অবদান আমরা সঠিক এবং পৃথক ভাবে মূল্যায়ন করতে পারব। তাদের আত্মত্যাগ ও আত্মদান খুলে দিক ইতিহাসের সেই জানালা যার গভীরে ঢুকে এই জাতি খুঁজে পাবে তার সত্ত্বা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here