ফেসবুককে বাঁচাতে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে

0
50

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, রাশিয়ান হ্যাকারদের হাত থেকে ফেসবুককে বাঁচাতে রীতিমতো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তার কোম্পানিকে।

আর একে রাশিয়ার সঙ্গে ফেসবুকের এক ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতা বলে উল্লেখ করেন মার্ক জাকারবার্গ। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেট কমিটির প্রশ্নের মুখে এ কথা জানান ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী।

প্রশ্নোত্তরের প্রাথমিক সেশনে ফেসবুক সিইও জানান, ফেসবুক সিস্টেমসহ বিশ্বের নানা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাইটগুলো হ্যাক করতে রাশিয়ায় লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে এই হ্যাকিং থেকে বাঁচতে তার কোম্পানির তরফ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা দলের সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুকের ৫ কোটি গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবহার করেছে।

এর কয়েক দিনের মাথায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নিজেই অতিরিক্ত ৩ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরির নতুন তথ্য দেয়। ৮ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরির ঘটনায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই ফেসবুকের প্রধান নির্বাহীর কাছে কৈফিয়ত তলব করে।

পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১০ এপ্রিল মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে ফেসবুক নিয়ে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এদিন সিনেটের বিচার ও বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির ৪৪ সদস্যের মুখোমুখি হতে হয় জাকারবার্গকে।

সিনেটরদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। তবে জাকারবার্গকে করা সিনেটরদের প্রশ্নে খুশি হতে পারেননি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাদের বক্তব্য, আমেরিকার আইনপ্রণেতাদের নিজেদেরই ফেসবুক সম্বন্ধে বিস্তারিত জ্ঞান নেই।

সোজা কথায় তারা ফেসবুক বোঝেন না। নইলে অবশ্যই তারা জাকারবার্গকে প্রশ্নফাঁদে আটকাতে পারতেন। যুগান্তর পাঠকদের জন্য জাকারবার্গের প্রশ্নোত্তর পর্বের চুম্বক অংশ তুলে ধারা হল :

‘আমরা কী ফেসবুককে বিশ্বাস করতে পারি?’ মার্কিন সিনেটরের আচমকা প্রশ্নটা শুনে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে ছিলেন সাড়ে ছ’হাজার কোটি মার্কিন ডলারের মালিক মার্ক জাকারবার্গ।

সামনে রাখা এক গ্লাস পানি খেয়ে গলা ভেজালেন। বোতল থেকে ছোট্ট গ্লাসে ফের পানি ঢেলে নিলেন জাকারবার্গ। উত্তর খুঁজছিলেন, কিন্তু পাচ্চিলেন না। কোথায় যেন আটকে যাচ্ছিলেন বারবার। কেন? কারণ, এখনও অনেক কিছু নিজেই জানেন না জাকারবার্গ। জানেন না, কী ভবিষ্যৎ ফেসবুকের। প্রথমেই এসেছিল নির্বাচনের প্রসঙ্গ।

মার্কিন নির্বাচনে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার বেআইনি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাকারবার্গ এক কথায় স্বীকার করে নেন, অন্যায় হয়েছে। আমি দুঃখিত। কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, আগামীতে আর এটা হবে না। ফেসবুকের বিকল্প কী? এ প্রশ্ন তুলেছিলেন এক সিনেটর।

কারণ, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ এ সবই তো একটি সংস্থার একচেটিয়া ব্যবসার অংশ।