প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার পেলেন গাফফার চৌধুরীসহ পাঁচজন

0
55

ঢাকা: প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার পেলেন খ্যাতনামা সাংবাদিক, কলামিস্ট ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীসহ পাঁচজন সাংবাদিক ও একটি প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রোববার বিকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার-২০১৮’ প্রদান করেন।

সাংবাদিকতা, গ্রামীণ সাংবাদিকতা, উন্নয়ন সাংবাদিকতা, নারী সাংবাদিকতা, ফটোগ্রাফী ও সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের নিজ নিজ ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সারা জীবনের অর্জন হিসেবে ছয়টি ক্যাটাগরিতে তাদের এই পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেকে তাদের অসামান্য অবদানের জন্য পাবেন ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও একটি সার্টিফিকেট।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- কলামিস্ট আবদুল গফফার চৌধুরী, (আজীবন সাফল্য পদক); দৈনিক সমকালের বিশেষ সংবাদদাতা রাজীব নূর, (গ্রামীণ সাংবাদিকতা); দৈনিক জনকন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার রাজন ভট্টাচার্য, (উন্নয়ন সাংবাদিকতা); দৈনিক বরিশালের সময়ের চিফ রিপোর্টার মর্জিনা বেগম (নারী সাংবাদিকতা), স্টাফ ফটোসাংবাদিক আলামিন লিয়ন এবং দৈনিক সংবাদ (প্রতিষ্ঠান)।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মোমতাজ উদ্দিন আহমদ, তথ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান একেএম রহমত উল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত তথ্য সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা সংহত রাখতে আরো তৎপর হতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে পারে, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবাদপত্রের দায়িত্বশীল ও পেশাদারী ভূমিকা সাধারণ জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

আবদুল হামিদ বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও মতামত পরিবেশনের মাধ্যমে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পাঠকদের সত্য ও কল্যাণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের পবিত্র দায়িত্ব।

বর্তমান সরকারের আমলে দেশে বহু বেসরকারি টিভি চ্যানেল, এফএম রেডিও, অনলাইন রেডিও, অনলাইন টেলিভিশন এবং কমিউনিটি রেডিওসহ মিডিয়া হাউস দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দেশের গণমাধ্যমের এই বিকাশ ও তার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর জোর দেন।

অসত্য, উস্কানিমূলক কিংবা হলুদ সাংবাদিকতা কখনই জনগণ ও গণতন্ত্রের বন্ধু হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা সমালোচনা করবেন। তবে তা যেন তথ্যভিত্তিক হয়। কোনোভাবেই যেন একপেশে না হয়। গঠনমূলক সমালোচনা সরকার পরিচালনা ও জাতি গঠনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।