প্রিন্স হ্যারি-মেগানের বিয়ের খুঁটিনাটি

0
63

আজ ব্রিটিশ রাজপরিবারে রাজকীয় বিয়ে। যুগলবন্দি হচ্ছেন রাজপরিবারের ৬ষ্ঠ উত্তরাধিকারী প্রিন্স হ্যারি ও মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেল। বিয়ের পর প্রিন্সেস হেনরি অব ওয়ালস নামে পরিচিত হবেন মেগান। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোর আলোকে জমকালো এ বিয়ের নাড়ি-নক্ষত্র যুগান্তরের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হল :

অনুষ্ঠানসূচি: সকাল ৮টা : আমন্ত্রিত সাধারণ অতিথিরা উইন্ডসর ক্যাসেলের মাঠে উপস্থিত হবেন। ৯টা ৩০ মিনিট : আমন্ত্রিত অতিথিরা আসা শুরু করবেন। ১১.২০ মিনিট : রাজপরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হবেন।

দুপুর ১২টা : প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল বিয়ের শপথ নেবেন। এক ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। দুপুর ১টা : জর্জ চ্যাপেল হয়ে উইন্ডসর শহরে ঘোড়ার গাড়িতে ২৫ মিনিট চড়বেন নবদম্পতি।

দুপুর ২টা : নবদম্পতিদের অভ্যর্থনা জানাবেন অতিথিরা সন্ধ্যা : ফ্রগমোর হাউসে পুত্র ও পুত্রবধূর সম্মানে ২ শতাধিক ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিশেষ পার্টি দেবেন প্রিন্স চার্লস।

বর-কনে : বর প্রিন্স হ্যারি ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের নাতি। প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস ও প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার ছোট ছেলে। কনে ছোট পর্দা ও বড় পর্দার তারকা মেগান।

মার্কিন টিভি সিরিজ ‘ফ্রিঞ্জ’ ও ‘স্যুটসে’ অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়া মেগান বয়সে হ্যারির চেয়ে তিন বছরের বড়। ২০১৬ সালে বন্ধুদের এক পার্টিতে তাদের পরিচয়।

মার্কেলের আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। মেগানের বাবা থমাস মার্কেল ও মা ডোরিয়া রাগল্যান্ড। বিয়েতে থাকছেন না তার বাবা।

কনের পোশাক : মেগানের বিয়ের পোশাক নিয়ে রহস্য রয়েছে। তবে তার পোশাক সাদা ধবধবে হবে না। বিবিসি শুক্রবার পোশাকের শেষ মুহূর্তের কাজ চলছিল এমন ছবি প্রকাশ করেছে। পোশাকের ডিজাইন করছেন পাচ তরুণ নকশাকার।

তারা হলেন- সিডনি ক্যাসিডি, হান্নাহ, সিডনি গ্যারেট, গ্লাডিস নাইট ও ইমিলি র‌্যাডফোর্থ। রাজকীয় কয়েকটি পোশাকের সমন্নয় করে পোশাকটি তৈরি করা হয়েছে। রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী গয়না পরবেন মেগান। ডায়ানা মৃত্যুর আগে নিজের গয়না দুই পুত্রবধূর জন্য রেখে গেছেন।

বরের পোশাক : পোশাক নিয়েও রয়েছে রহস্য। ব্রিটিশ গণমাধ্যম অনুসারে, প্রিন্স হ্যারি বরাবরই রাজকীয় কোনো অনুষ্ঠানে ইউনিফর্ম ধাঁচের পোশাক পরেন। বিয়েতেও তাই পরবেন। বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামও একই পোশাক পরেছিলেন।

বিয়ের ভেন্যু : প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের বিয়ে হবে উইন্ডসর ক্যাসেলের সেন্ট জর্জেস চ্যাপেল গির্জায়। প্রাচীনতম এই দুর্গেই খ্রিষ্টীয় রীতিতে বিয়ে হবে তাদের।

উইন্ডসর হল রানী এলিজাবেথের বাসস্থান। সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় তিনি এখানেই থাকেন। গির্জার ধারণক্ষমতা ৮০০ জন।

বিয়ের ভেন্যু ফুলে ফুলে সাজিয়ে তোলার দায়িত্ব পেয়েছেন লন্ডনের ফুল ব্যবসায়ী ফিলিপ্পা ক্র্যাডোক। থাকছে সাদা গোলাপ, পিওনি ও ফক্সগ্লোভস। বিয়ের পর ফুলগুলো দান করে দেয়া হবে স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানে।

বিয়ের পড়াবেন যিনি : সেন্টারবুরির যাজক জাস্টিন উইলবি হ্যারি ও মেগানের বিয়ে পড়াবেন। উইন্ডসর চার্চের ডিন রেখ ড্যাভিড কনার জর্জ চ্যাপেলের আনুষ্ঠানিকতায় নেতৃত্ব দেবেন।

বিয়ের নিরাপত্তা : রাজপরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠানে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের বিয়ের পুরো নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে টেমস ভ্যালি পুলিশ।

তাদের সহযোগিতা করবে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ। কয়েক সপ্তাহ আগ থেকেই উইন্ডসরের রাস্তায় টহল দিতে শুরু করে অস্ত্রধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশ। বিয়ের দিন সার্চ ডগ দিয়ে পুরো এলাকা পাহারা বসবে।

বিয়ের অতিথি : সেন্ট জর্জ হলে রানীর আমন্ত্রণে প্রায় ৬০০ অতিথি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। রাজপরিবারের একটি সূত্রে সিএনএনকে জানায়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামা, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাওয়াতপত্র পাননি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বা বিরোধী দলের নেতা জেরেমি করবিন কেউই বিয়েতে থাকছেন না।

বিয়ের কার্ডের নকশা : বিয়ের আমন্ত্রণপত্র নকশা করছে লন্ডনের বিখ্যাত বার্নার্ড অ্যান্ড ওয়েস্টউড কোম্পানি। গত শতকের আশির দশক থেকে এই প্রকাশক প্রতিষ্ঠানটি রাজপরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত।

বিয়ের কেক : বিয়ের কেক তৈরি করবেন লন্ডনভিত্তিক বেকারি মালিক ক্লেয়ার পেতাক। বিয়ের আমন্ত্রিত অতিথিদের লেমন এলডার ফ্লাওয়ার কেক বানিয়ে খাওয়াবেন এই জনপ্রিয় শেফ। বাটার ক্রিম ও তাজা ফুল দিয়ে সাজানো সেই কেকে থাকবে বসন্তের ছোঁয়া। ছয়দিন ধরে কেকটি বানানো হয়েছে। আরও থাকছে উইন্ডসর চার্চের আদলে তৈরি চকলেট।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি : রাজপরিবারে বিয়ে হবে আর ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দ হবে না- তা কি হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শতাধিক সংবাদকর্মী উপস্থিত হয়েছেন লন্ডনে। একে তো রাজপরিবারের বিয়ে, তাছাড়া কনে মার্কিন ও বর ব্রিটিশ- তারা দুই দেশের হওয়ায় আগ্রহরা আরও একটু বেশি।

টিভিতে সরাসরি প্রচার : যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে রাজকীয় এই বিয়ের আয়োজন টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ২০১১ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ টেলিভিশনে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়ে দেখেছিলেন।

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ দেখেছে এমন দশটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের একটি ছিল এটি। ছোট ভাই হ্যারির ক্ষেত্রেও সংখ্যাটা হয়তো এমনই হবে।

বিয়ের আলোকচিত্রী : উইন্ডসর ক্যাসেলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়ে গেলে জনপ্রিয় আলোকচিত্রী অ্যালেক্সি লুবোমির্সকি প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের বিয়ের ছবি তুলবেন।

একই আলোকচিত্রী গত বছর ফ্রোগমোর হাউসে এই দু’জনের বাগদানের আনুষ্ঠানিক ফটোশুট করেছিলেন।

আনন্দ আয়োজন : জনপ্রিয় ব্যান্ড স্পাইস গার্লস, শিল্পী এলটন জন, এড শিরান, স্যাম স্মিথ প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় গান পরিবেশন করতে পারেন।

বিয়ের দিন সন্ধ্যায় প্রিন্স চার্লস যে সংবর্ধনার আয়োজন করবেন, সেখানেও গান-বাজনার ব্যবস্থা রাখা হবে বলে শোনা গেছে। কিন্তু কেনসিংটন প্রাসাদ থেকে এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

মধুচন্দ্রিমা : রাজপরিবারের সদস্য বলে প্রিন্স হ্যারি আর মেগান মার্কেলের বিয়ের অনুষ্ঠান বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই সরাসরি দেখা যাবে।

বিয়ের অনুষ্ঠান পাবলিক হয়ে গেলেও মধুচন্দ্রিমা যথাসম্ভব গোপনেই সারবেন মেগান-হ্যারি। রাজপ্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর শিগগিরই হানিমুনে যাচ্ছেন না এই হবু দম্পতি।