প্রস্তাবিত বাজেট ২০১৬-১৭, বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন

0
232

233417sompa-1অর্থমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন। এতে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। ঘাটতি রয়েছে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, যা ঋণ ও সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। কেউ কেউ এ বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বলেছেন। আবার কেউ কেউ সামগ্রিক প্রয়োজন ও উন্নয়ন চাহিদার বিপরীতে বরং আরো বৃদ্ধির যৌক্তিকতাই তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বিদ্যমান কর কাঠামো এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বিচারে এ বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ছোট্ট দেশ। ১৬ কোটি মানুষ, যার একটি বড় অংশ কর্মক্ষম, অথচ বেকার যুবসমাজ। দেশের ভেতরে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ কম, তেমনি প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাবে বিদেশের শ্রমবাজারেও তারা প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে পারছে না। অবকাঠামো, জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবে দেশে বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে না। প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। জননিরাপত্তা হুমকির মুখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ যেমন ব্যক্তি হিসেবে, তেমনি জাতি হিসেবে আমরা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া তেমনি একটি স্বপ্ন। এই স্বপ্নের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পিত উন্নয়নের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আর সেই প্রেক্ষাপটে এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট মোটেও কোনো বড় অঙ্ক নয়। সীমিত সাধ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যেতেই হবে এবং বাজেটে তা-ই করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত।

মোট বাজেটের ১৫.৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এ খাতে এবং এমনটিই প্রত্যাশিত ছিল। শিক্ষিত ও দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তোলা না গেলে উন্নয়ন কখনো গতি পাবে না। অনেকটা তাত্ক্ষণিকভাবেই বিভিন্ন মহল থেকে তার প্রশংসা করা হয়েছে। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগও (সিপিডি) উন্নয়ন খাতের মধ্যে শিক্ষা ও রেল যোগাযোগ খাতের বরাদ্দকে ইতিবাচক হিসেবেই উল্লেখ করেছে। বাজেট নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকেও। এক তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটির নেতারা বাজেটকে ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে অভিনন্দন জানানো হয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে। অন্যদিকে বাজেটের কিছু দুর্বলতাও তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং সোসাইটি অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দাবি ও প্রস্তাবগুলো বিবেচিত হয়নি এ বাজেটে। তাই দেশের আবাসন খাত ও লিংকেজ শিল্পগুলো আরো বেশি সংকটে পড়বে।

আমরা আশা করি, বিগত অর্থবছরগুলোর বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সরকার সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে এবং ঘোষিত বাজেট শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি ঘোষিত বাজেটের দুর্বলতাগুলো সংশোধন করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here