প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা বাড়ান : শান্তিরক্ষীদের প্রতি রাষ্ট্রপতি

0
23

ঢাকা: বিশ্বের অন্যান্য দেশের শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘ মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। যাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শান্তিরক্ষীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারে। সে লক্ষ্যে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। খবর ইউএনবির।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী : সেবা ও ত্যাগের ৭০ বছর’।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে শান্তিরক্ষী দিবস। ১৯৮৮ সালে শান্তিরক্ষী প্রেরণের পর এ বছর শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের ৩০ বছর পূর্তি হচ্ছে।

আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে উদ্যোগী হতে হবে।

জাতিসংঘ সদর দফতরে উচ্চপর্যায়ে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপর জোরারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতিসংঘ সম্প্রতি নারী প্রতিনিধিত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ১৫৭ নারী শান্তিরক্ষী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাঈমা হক এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই লুৎফির সচিত্র অবস্থান আমাদের নারী শান্তিরক্ষীর অবস্থানকে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে।

শান্তিরক্ষীদের প্রসঙ্গে আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমাদের শান্তিরক্ষীরা ৪০ দেশে ৫৪টি মিশন অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে। এ মুহূর্তে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ১২৪ দেশের ৯১ হাজার ৫৮ জন শান্তিরক্ষীর মধ্যে সাত হাজার ৭৫ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী রয়েছে, যা সত্যিই গর্ব করার বিষয়। বর্তমানে ১০টি মিশনে আমাদের শান্তিরক্ষীরা নিয়োজিত আছেন।’

‘জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের কার্যকরী অংশগ্রহণ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে আজ একটি মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে,’ যোগ করেন রাষ্ট্রপতি।

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অর্জন উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘আপনারা অনুকরণীয় পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শন করে বিশ্বের অন্যান্য সহযোগী শান্তিরক্ষীদের শ্রদ্ধা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছেন। জাতিসংঘ এবং বিশ্বের সব শান্তিপ্রিয় দেশ আপনাদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সাফল্য এবং উপযুক্ততার প্রশংসা করেছে। একই সঙ্গে শান্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি স্থানীয় দেশের জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা অর্জন করেছেন। এ ছাড়া আপনারা দেশের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, যা আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

শান্তিরক্ষী মিশনে অন্যতম শীর্ষ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে প্রথমসারির শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে যে গৌরব ও মর্যাদা লাভ করেছে, তা আপনাদের সাহস, বীরত্ব, অসামান্য পেশাদারিত্ব ও দক্ষতারই ফসল। এ গৌরব আপনাদের সমুন্নত রাখতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

শান্তিরক্ষীরা তাদের কর্ম, মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি শক্তিশালী শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন এবং বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখবেন বলে আশা করেন রাষ্ট্রপতি।

বিশ্ব শান্তি রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব শান্তিরক্ষী সদস্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। তাদের স্মরণে অনুষ্ঠানে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, জাতিসংঘের রেসিডেন্স কোঅর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো, জ্যেষ্ঠ শান্তিরক্ষী, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মো. নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং রাষ্ট্রপতি দফতরের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।