প্রবাসীদের ভালবাসা আর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন গজনফর আলী চৌধুরী ও মাহবুবুর রহমান

0
132

নিউইয়র্ক: প্রবাস তথা বাংলাদেশের রাজনীতি ও সাংবাদিকতা জগতের দুই দিকপাল ও অনুকরণীয় দুই ব্যক্তিত্ব গজনফর আলী চৌধুরী ও মাহবুবুর রহমান প্রবাসীদের আন্তরিক ভালবাসা আর রং বে রং-এর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন। তাদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তারা বাংলাদেশী কমিউনিটির অভিভাবক, নীতি-আদর্শের প্রতীক, আলোকিত মানুষ। তাদের নীতি, আদর্শ অনুসরণযোগ্য, অনুকরণীয়। তারা তাদের জীবদ্ধশায় যে আদর্শের দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন তার জন্যই তারা মানুষের মনে অমর হয়ে থাকবেন।

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক সংবাদ-এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট রাজনীতিক গজনফর আলী চৌধুরী এবং সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ও অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক নিউইয়র্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান-এর সম্মানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। খবর ইউএনএ’র।

সিটির জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে গত ৮ জানুয়ারী রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. সাদ উজ জামান। যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট লেখক ও যুক্তরাষ্ট্র উদীচী শিল্পী গোষ্ঠির সংগঠক সুব্রত বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি শাহাব উদ্দীন। অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সম্বর্ধিত অতিথিদ্বয়কে ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান ছাড়াও প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’র পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়। এছাড়াও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন, মৌলভীবাজার জেলাবাসীর পক্ষ থেকে উভয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে তাদেরকে বই উপহার দেন আলোকচিত্রী ওবায়দুল্লাহ মামুন। অপরদিকে গজনফর আলী চৌধুরীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সুব্রত বিশ্বাস এবং মাহবুবুর রহমানকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সাংবাদিক আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি গজনফর আলী চৌধুরী প্রবাসীদের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা জানানোর জন্য আয়োজক ও উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তার জীবনের বিভিন্ন দিক সহ নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি আমার সারাটি জীবনই সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদনের চেষ্টা করেছি। জেল-জুলুম কোন কিছুই আমাকে নিরস্ত্র করতে পারেনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও স্বোচ্চার থেকে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের পক্ষে সংগ্রাম করেছি। আজীবন এই সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।

গজনফর আলী চৌধুরী বলেন, মৌলভীবাজারে কমিউনিস্ট পার্টি করতে গিয়ে আমি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলাম। গৃহহীন হয়েছি। তারপরও প্রগতির সংগ্রাম ছাড়িনি। এক পর্যায়ে লেখাপড়া চালাতে দৈনিক সংবাদে চাকুরী করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেন, আদর্শের সংগ্রামে সব সময়ই বাধা আসবে। কিন্তু তাতে দমে গেলে চলবে না। সমাজে পরিবর্তন আনতে হলে কাউকে না কাউকে ত্যাগ ও বিসর্জনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হয়। এজন্য আমার জীবনে যা কিছু করেছি তাতে কারো প্রতি আমার কোন ক্ষোভ বা অভিমান নেই। যা সত্য মনে করেছি তার উপর অবিচল থাকার চেষ্টা করেছি। এটাই আমার জীবনের সব চাইতে বড় শান্তনা।

তিনি বলেন, আমার শারিরীকি অবস্থা ভাল নেই। চিকিৎসকরা হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন বলছেন এই বয়সে এটা সম্ভব নয়। এজন্য হার্টের বাল্বের উপর আমি নির্ভরশীল। এটা যখনই বন্ধ হয়ে যাবে তখন আমারও হয়তো চলে যেতে হবে। বাকী সবই আল্লাহর ইচ্ছা। তিনি তার জন্য দোয়া করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের অপর সংবর্ধিত ব্যক্তি, প্রবীণ সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, আমি সাংবাদিকতায় নৈতিকতার শিক্ষা নিয়েছিলাম সিলেটের যুগভেরী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা আমিনুর রশীদ চৌধুরীর কাছ থেকে। তিনি বলেছিলেন, একাজে জেল-জুলুম নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সত্যের সাথে আপোষ করা যাবে না। আমি সেখান থেকেই অন্যায়ের সাথে আপোষ না করার শিক্ষা নিয়েছিলাম। তিনি বলেন, প্রবাস জীবনে অনেকের সাথে কাজ করেছি। এটাও আমার জীবনের অভিজ্ঞতাকে আরো পোক্ত করেছে। তিনি বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই প্রগতিশীলতার পক্ষে ছিলাম। আমার মরহুম মা আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছিলেন। যার ফলে সারাটি জীবনই এর প্রভাব কাজ করেছে আমি চিন্তা ও চেতনায়।

সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান বলেন, সাহিত্য সংস্কৃতি সহ জ্ঞানে বিজ্ঞানে সিলেটিরা এগিয়ে থাকলেও সেলসম্যানশীপের অভাবে সিলেট কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। সিলেটে একদিকে যেমন ছিলেন, হযরত শাহজালাল অন্যদিকে ছিলেন রাধা রমন, সৈয়দ মুজতবা আলী সহ আরো অনেকে। এদের মেধা, সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি শারিরীকভাবে একটু অসুস্থ্য। তারপরও আবার লেখালেখি শুরু করছি। আশা করি নিজের অভিজ্ঞতার কথা সবার সাথে শেয়ার করতে পারবো। অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই অতিথির সংক্ষিপ্ত জীবনী পড়ে শুনান মোহাম্মদ আলীম উদ্দীন ও ওবায়দুল্লাহ মামুন। এরপর সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের জীবনীর উপর আলোচনা করেন প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’র ব্যুরো প্রধান ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন এবং গজনফর আলী চৌধুরীর জীবনীর উপর আলোচনা করেন তার ঘনিষ্ট বন্ধু ও অধ্যাপক সৈয়দ মুজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত, সাংবাদিক-লেখক শিতাংশু গুহ, বিশিষ্ট রাজনীতিক আব্দুর মোসাব্বির, কমিউনিটি নেতা ফখরুল আলম, সালেহ আহমদ চৌধুরী, সালেহ আহমদ, এমাদ চৌধুরী, নুরে আলম জিকু, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, কাশেম আলী, মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, এডভোকেট নাসির উদ্দীন, তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, মিহনাহজ আহমদ সাম্মু, সৈয়দ সিদ্দিকুল হাসান, আনসার হোসেন চৌধুরী, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, রাফায়েত চৌধুরী, সোহান আহমদ টুটুল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গজনফর আলী চৌধুরী আর মাহবুবুর রহমান আমাদের কমিউনিটির সম্মানিত ব্যক্তিত্ব, আদর্শবাদী মানুষ। তারা আমাদের অভিভাবক। আদর্শের কোন মৃত্যু নেই। তাদের মেধা, কর্ম আর যোগ্যতা দিয়ে আমৃত্যু বেঁচে থাকবেন। তারা আদর্শবাদী মানুষ বলেই আমরা সবাই মিলে তাদের সংবর্ধনা দিতে পারছি। আর সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য। তারা সম্মানিত হলে আমরাও সম্মানিত হবো। বক্তারা তাদের সুস্থ জীবন ও দীর্ঘায়্যু কামনা করেন।

<