প্রধান বিচারপতি বিদেশ যেতে চান আজ

0
3

ঢাকা: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা অস্ট্রেলিয়াসহ চার দেশ সফরে যাচ্ছেন আজ। তার বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ চারটি দেশে যেতে চান। তিনি ১৩ অক্টোবর (আজ শুক্রবার) বিদেশ যেতে চান এবং ১০ নভেম্বর দেশে ফিরে আসবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। তিনি দায়িত্বে না ফেরা পর্যন্ত আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে বৃহস্পতিবার রাজধানীর স্বামীবাগে ইসকন মন্দিরে পূজা দিতে যান এস কে সিনহা।

আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক স্বাক্ষরিত আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার বলা হয়, প্রধান বিচারপতির আবেদনে এর আগে ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু বিচারপতি এস কে সিনহা যেহেতু আরও বেশি দিন বিদেশে থাকবেন, সেহেতু রাষ্ট্রপতি নতুন আদেশ দিয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বর্ধিত ছুটিতে প্রধান বিচারপতির বিদেশে অবস্থানের সময় অর্থাৎ ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অথবা তিনি দায়িত্বে না ফেরা পর্যন্ত বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির কার্যভার সম্পাদন করবেন।

বুধবার প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সরকারি আদেশ (জিও) সংক্রান্ত নথিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের স্বাক্ষরের পর বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। এর আগে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে চিঠি দেন প্রধান বিচারপতি। এতে উল্লেখ করা হয়, ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চান। চিঠিতে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও করা হয়। প্রধান বিচারপতির আবেদন অনুযায়ী, আজ তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কথা।

সুপ্রিমকোর্টের ২৫ দিনের অবকাশ শেষে প্রথম কার্যদিবসেই (৩ অক্টোবর) অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটিতে যান এস কে সিনহা। ছুটিতে গিয়েই তিনি সস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ বছরের ভিসার জন্য আবেদন করেন। তারা তিন বছরের ভিসা পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় তাদের বড় মেয়ে সূচনা সিনহা থাকেন। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারিতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এস কে সিনহার আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কথা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আইন মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি যেটা চেয়েছেন, তার চিঠিতে যেটা আছে, সেটাকেই আমরা প্রজ্ঞাপন করেছি। প্রধান বিচারপতির চিঠিতে তার ব্যক্তিগত সহকারী আনিসুর রহমান লিখেছেন, উনি বিদেশ যেতে চান। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য- এ চারটি দেশে তিনি যেতে চান। ১৩ অক্টোবর যাওয়ার পর ১০ নভেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি আগে ছুটি নিয়েছিলেন ১ নভেম্বর পর্যন্ত। তিনি সেই ছুটি বৃদ্ধি করে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত করেছেন।

বর্ধিত ছুটির সময়ে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি একজন অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন। আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ছুটিতে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল তার অবসান ঘটল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, কিসের বিতর্ক? ব্যক্তিগত কারণে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে গেছেন। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি এখন বিদেশ সফর করবেন, এর মধ্যে বিতর্ক কিসের?

ষোড়শ সংশোধনী রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন : ষোড়শ সংশোধনী রায়ের বিরুদ্ধে সরকার কবে নাগাদ রিভিউ করবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করার সময়সীমা আছে। এর সীমা হচ্ছে ৩০ দিন। আমি জানতে পেরেছি ১০ অক্টোবর রায়ের কপি (সার্টিফায়েড কপি) পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, কপি পাওয়ার পর ২ দিন চলে গেছে। নিয়ম হচ্ছে যেদিন রায় হয় সেদিন থেকে সময় গণনা শুরু হয়। কিন্তু যেদিন সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার জন্য কোনো পক্ষ আবেদন করে সেদিন গণনা বন্ধ থাকে। আবার যেদিন সার্টিফায়েড কপি তৈরি হয় সেদিন থেকে গণনা শুরু হয়। এটা ৭৯৯ পৃষ্ঠার রায়। রায়টা অত্যন্ত ‘ইম্পর্টেন্ট’। আমরা চেষ্টা করব ৩০ দিনের মধ্যেই এ রিভিউ পিটিশন দাখিল করার। কিন্তু সেটা যদি না পারি আমাদের ‘বিলম্ব মওকুফের’ আবেদন করতে হবে।

বিএনপির অভিযোগের জবাব : প্রধান বিচারপতি ইস্যুতে পক্ষে-বিপক্ষে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে সে ব্যাপারে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা এটা করছেন, তাদের ইতিহাস বিবেচনা করে দেখুন। তাদের জন্ম হচ্ছে সামরিক শাসনামলে। আদালতের প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধা নেই। আদালত থেকে সমন দেয়া হয়। তাদের নেত্রী সমনের পর আদালতে যান না। তারা আদালতে গিয়ে বিচারককে গালাগাল করেন। অসুস্থতার কারণে একজন প্রধান বিচারপতি চিঠি লিখে ছুটি নিয়েছেন। সেটাকে নিয়ে তারা রাজনীতি করছেন। আমি মনে করি, তাদের হাতে আন্দোলনের আর কোনো ইস্যু নেই। এখন তারা খড়কুটো আঁকড়ে ধরে আন্দোলনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমরা বলব, আদালতের বিষয় নিয়ে যেন তারা কোনো রাজনীতি না করেন। এতে কোনো ফল হবে না।

ইসকন মন্দিরে প্রধান বিচারপতি : রাজধানীর স্বামীবাগে ইসকন মন্দিরে বৃহস্পতিবার পূজা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোর ৬টার কিছু আগে হেয়ার রোডের বাসভবন থেকে বেরিয়ে ইসকন মন্দিরে যান প্রধান বিচারপতি। এ সময় তার স্ত্রী সুষমা সিনহাও সঙ্গে ছিলেন। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে মন্দিরে পূজা দেন। সকাল ৮টার দিকে প্রধান বিচারপতি তার বাসভবনে ফেরেন।
জানা গেছে, প্রধান বিচারপতির ইসকন মন্দিরে যাওয়ার বিষয়টি পূর্বনির্ধারিত ছিল না। এ সময় মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির কেউ উপস্থিত ছিলেন না। অন্য যারা ছিলেন তাদের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির তেমন কোনো কথাও হয়নি।

দুপুর ২টার দিকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে প্রবেশ করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক সজল কুমার ব্যানার্জি। তিনি বের হয়ে যান ৩টার দিকে। অধ্যাপক ডা. সজল কুমার ব্যানার্জি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান। এছাড়া প্রধান বিচারপতির ভাই এন কে সিনহা বাসভবন থেকে বের হন বেলা পৌনে এগারোটার দিকে। তিনি ওই ভবনে প্রবেশ করেন বুধবার রাত পৌনে এগারোটায়। অন্যদিকে সুপ্রিমকোর্টের বেঞ্চ রিডার মাহবুব হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে কিছু সময় অবস্থান করে বের হয়ে আসেন।

এসকে সিনহার সঙ্গে দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ : এদিকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রুহুল কুদ্দুছ এবং বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে তারা একটি গাড়িতে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে প্রবেশ করেন এবং সাতটা ৩৫ মিনিটে বের হয়ে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here