প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: ৭ জন ৭ দিনের রিমান্ডে

0
76

1000-upload-iblock-ad2-biman-bangladesh-airlines_comঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে ত্রুটির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় বাংলাদেশ বিমানের সাত কর্মকর্তার সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তীর আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

যাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হবে তারা হলেন- বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স) এস এ সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস ও জাকির হোসাইন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক মাহবুবুল আলম আসামিদের ১০ দিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি করে বলে প্রতীয়মান হয়। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন, ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না তা জানার জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এজন্য তাদের ১০ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লা আবু এবং কাজী নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, এটা যেনতেন মামলা নয়। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার মামলা। আটককৃতরা সেদিন বিমানের দায়িত্বে ছিলেন। তারা কে কে ষড়যন্ত্রের কোন কোন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তা জানা প্রয়োজন।

তা ছাড়া জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে কি না জানার জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এজন্য তাদের ১০ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক। আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন চান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অপরদিকে এই ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে একই আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিমানের সাত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে মামলার এজাহার আদালতে পৌঁছালে ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম মিয়াকে মামলাটি তদন্ত করে ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে বিমানের নয় কর্মকর্তাকে আসামি করে বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) এম এম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ১০৯, ১১৮, ১২০ (খ), ২৮৭ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় মামলাটি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে (বোয়িং-৭৭৭) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারণে তুর্কমেনিস্তানে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

অন্য একটি উড়োজাহাজ পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের হাঙ্গেরি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হলেও পরবর্তী সময়ে ত্রুটি সারিয়ে ওই উড়োজাহাজেই হাঙ্গেরি যান প্রধানমন্ত্রী। এ ঘটনায় দুই দফায় উল্লিখিত নয়জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।