প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর, বন্ধু দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন

0
374

001305sompa-1প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক জাপান সফরে রচিত হলো নতুন মাইলফলক। জি-৭ আউটরিচ বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার টোকিও পৌঁছানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেসহ অন্যান্য সরকারপ্রধান ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এসব বৈঠকে। জি-৭ আউটরিচ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ সম্মান দেখানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পাশের আসনেই ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতিশীল নেতৃত্বের কারণে বিশ্বনেতৃত্বের কাছে একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়কের ইমেজ সৃষ্টি করতে পেরেছেন তিনি। তাঁর সামনে এখন ২০২১ সালের চ্যালেঞ্জ। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী। বাড়ছে মাথাপিছু আয়। বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার। রপ্তানি আয় বাড়ছে। বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একটি উপযোগী সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বন্ধু দেশগুলোর অকুণ্ঠ সহযোগিতা বাংলাদেশকে যে লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে নিয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই লক্ষ্য পূরণে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বন্ধু রাষ্ট্র জাপান। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি ছিল খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ। বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুত ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে এ বছরই ১৫০ কোটি ডলার দেওয়া হবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত করার জন্য শেখ হাসিনার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সব কিছুই করবে তাঁর দেশ। জাপান সরকারের পক্ষ থেকে এই আশ্বাস বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। অন্যদিকে গতকাল রবিবার টোকিওতে এক প্রাতরাশ বৈঠকে জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। শিল্প উত্পাদন খাতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি বিপুল জনশক্তির কথা জাপানি ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। বাংলাদেশ যে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও আইটি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে এবং ৩৩টির কাজ এগিয়ে চলেছে, এ কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন তাঁর বক্তৃতায়।

বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে পরিচিতি পেয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা গেলে বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তৈরি পোশাক, হালকা প্রকৌশল, ওষুধশিল্প, বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনাময় খাত। এসব খাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত হলে আগামী চার বছরে শিল্প উত্পাদন খাতে এক কোটি মানুষ যুক্ত হবে বলে আশা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের সামনে এখন যে অপার সম্ভাবনা তা কাজে লাগাতে হবে। দেশের উন্নয়নে বন্ধু দেশগুলোকে আরো বেশি করে যুক্ত করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, গতিশীল নেতৃত্বই পারে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।