প্রতিটি জন্মদিন মানে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে আসা

0
94

বিনোদন ডেস্ক: বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। অভিনয়ে দীর্ঘ ভ্রমণ তার। অভিনয়ের বাইরে একজন কাহিনীকার হিসেবেও পরিচিত তিনি। জনপ্রিয় এ অভিনেতার আজ জন্মদিন। বয়সের হিসাবে ৭৭ বছরে পা রেখেছেন। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ভ্রমণ, জন্মদিন পালনের পরিকল্পনা ও মিডিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আজকের ‘হ্যালো…’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

* জীবনের এতগুলো বসন্ত পার করেছেন। প্রাপ্তির জায়গা থেকে জীবনকে কীভাবে দেখছেন?
** ৭৭ বছরে পা রাখছি। এটা কিন্তু দীর্ঘ সময়। আমার সঙ্গের অনেককে চলে যেতে দেখেছি। আমার জুনিয়র অনেকেও চলে গেছেন। আমি কিন্তু এখনও আছি। স্রষ্টা আমাকে এই প্রাপ্তিটুকু দিয়েছেন, এটা ভাবলেই তো শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। তার ওপর মিডিয়াতে এখনও সবার ভালোবাসা নিয়ে সম্মানের সঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছি। সবাইকে হাসাচ্ছি, নিজেও আনন্দ পাচ্ছি। জীবন আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে। প্রাপ্তির খাতায় শূন্যতা বলে আমার কিছু নেই।
* বিশেষ এই দিনটি কীভাবে পালন করছেন?
** জন্মদিন নিয়ে আমার মধ্যে কখনই কোনো বাড়তি কৌতূহল ছিল না। এখনও নেই। কারণ আমার কাছে জন্মদিন আসা মানেই মৃত্যুর কাছাকাছি চলে এসেছি এটা স্মরণ করিয়ে দেয়া। জন্মদিন আসা মানেই জীবন থেকে আরেকটি বছরের বিদায়। আজ চ্যানেল আইতে ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দিন শুরু করব। এরপর জানি না কী হবে। আমার কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই। তবে অনেকেই আমার জন্মদিনটি নানাভাবে পালন করেন। শুভেচ্ছা জানাতে আসেন।
* আপনি তো চলচ্চিত্রের মানুষ। এখন নাটকেই বেশি অভিনয় করছেন। কারণ কী?
** আমি একজন অভিনেতা। যখন যে মাধ্যমে দর্শক আমাকে দেখে আনন্দ পাবেন সেই মাধ্যমেই কাজ করব। এখন টিভিতে বেশি কাজ করছি। কারণ এখানে দর্শকরাও আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। এ মাধ্যমে কাজ করে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধও করি। এছাড়াও এখন আমার যে বয়স, তার উপযোগী করে চলচ্চিত্রে তো কোনো চরিত্র তৈরি করা হয় না। নাটক-সিনেমা মুখ্য বিষয় নয়। আমি যে কাজগুলো করছি সেটি দর্শক টানতে পারছে কিনা এটাই আসল বিষয়। মিডিয়ার মানুষদের প্রধান উদ্দেশ্য কিন্তু মানুষের কষ্টগুলো ভুলিয়ে রাখা। অভিনয়ের মাধ্যমে তাদের হাসিখুশি
রাখা। আমার মনে হয় সে আমি পারছি।
* আপনি তো সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। তখনও অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন ছিল?
** ইসমাইল মোহাম্মদ (উদয়ন চৌধুরী) কলকাতায় ‘মানুষের ভগবান’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। ঢাকায় এসে তিনি ‘বিষকন্যা’ নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এই চলচ্চিত্রে তার সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলাম। দীর্ঘদিন সহকারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে যখন ছোট ছোট চরিত্রাভিনেতারা আসতে পারতেন না, তখন আমিই অভিনয় করতাম। এর আগে কিন্তু আমার মাথায় অভিনেতা হওয়ার চিন্তা ছিল না। ছোট ছোট চরিত্রগুলো করার পরই দেখলাম আমি এটা পারি। শুধু পারিই না, যারা করছে তাদের অনেকের চেয়ে ভালোই করি। পরে এক সময় আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়নমণি’ ছবিতে অনেকটা জোর করেই একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করি। ব্যস, আলোড়ন সৃষ্টি করে ছবিটি। আমিও হাঁটি সামনের পথে। য় আনন্দনগর প্রতিবেদক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here